‘মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার দেখে যেতে চাই’


কারও সন্তান নিখোঁজ আট বছর দরে, কারও দেড় মাস আগে। কারও ছেলে আবার হারিয়ে গেছে মাত্র ৩৮ দিন আগে। তবে দিন-ক্ষণের হিসাবে সময়টা যাই হোক, সন্তানকে ফিরে পেতে বাবা-মার অপেক্ষার শেষ হয়নি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ‘নিখোঁজ’ শিশুদের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সন্তানদের ফিরে পেতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এসব বাবা-মা।

নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ থাকা ৩০টি শিশুর পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন এবং সন্তানকে ফেরত পেতে দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে সম্প্রতি স্বীকার করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। এসব নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে, এবং এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। তবে এখনো খোঁজ মেলেনি ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে আসা ইসমাঈলের হোসেন নামে এক বাবা বলেন, তার ছেলে ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর লালবাগ থেকে নিখোঁজ হয়। তখন ছেলের বয়স ছিল আট বছর। এরপর থেকে এতদিনেও সন্তানের সন্ধান পাননি তিনি।

ইসমাঈল হোসেন বলেন, ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে যা কিছু অর্জন করেছি, সবকিছু চলে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। মৃত্যুর আগে আমার সন্তানকে একবারের জন্য দেখে যেতে চাই। এছাড়া আমার কিছু চাওয়ার নেই।

তার অভিযোগ, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর প্রশাসনের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি তিনি।

ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের মো. হোসেনের ১৩ বছর বয়সি ছেলে মো. আলী গত ২৯ জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। কোরআনে হাফেজ ছেলেকে খুঁজতে বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছেন হোসেন। তার অভিযোগ, জিডি করতে গিয়ে প্রথমে পুলিশের সহযোগিতা পাননি।

‘দেড় মাস যাবৎ ছেলেকে আদর করতে পারি না। খাওয়াতে পারি না, ভালো পোশাক কিনে দিতে পারি না। আমার দুঃখের শেষ নেই।’

সাভারের বলিয়াপুর থেকে ৩৮ দিন আগে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সি যাদব কর্মকার। পোশাক শ্রমিক মা অর্চনা রানী দাস সন্তানের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি আমার বাচ্চাকে চাই। এই বাচ্চা ছাড়া আমি বাঁচব না। সন্তানকে না পেলে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে পরিবারের অন্যদের কথা ভেবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে এসেছি।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তোলেন জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাদাত রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সহযোগিতায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এটি দেশব্যাপী শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধ ও উদ্ধারে সহায়ক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *