লংমার্চে তেল নষ্ট না করে সংসদে এসে কথা বলুন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


জ্বালানি সংকটের কথা বলে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি পালনকে সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করে জ্বালানি খরচ না করে বিরোধী দলগুলোর উচিত সংসদে এসে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা। সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, একদিকে বলছেন তেল নেই, গ্যাস নেই। অন্যদিকে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছেন। গাড়িগুলো কি পানিতে চলে, নাকি তেলে চলে? লংমার্চ করে তেল নষ্ট না করে সংসদে এসে কথা বলেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে লংমার্চ না করে সংসদে এসে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা নিয়মিত সংসদে আসছেন, সেখানে আপনাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরুন। আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যার সমাধান করতে পারব। আমরা চাই সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের জন্য কাজ করবে।

দেশে গণতন্ত্র ফিরে এলেও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে দাবি করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। বিভিন্ন বিষয়ে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সারের সংকট নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের মধ্যে সারের সংকট রয়েছে—এমন ধারণা ছড়িয়ে তাদের ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সারের কোনো সংকট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে বিগত সরকারের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে এ খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিদ্যুৎ স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়নি। দেশের মজুত থাকা গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কয়েক মাসে দূর করা সম্ভব নয়। গত দেড় বছরেও এ খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। প্রকৃত অপরাধীদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হওয়া উচিত। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি বা বিচারের মুখোমুখি করা উচিত নয়। আমরা চাই যারা দোষী, তাদের বিচার হোক। কিন্তু প্রতিহিংসার কারণে যারা অন্যায় করেনি, কোনো খুন বা অবিচারের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের যেন অন্যায়ভাবে বিচার করা না হয়।

এর আগে, নগরকান্দা মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালিতে অংশ নেন তিনি। র‍্যালিটি উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ভূমি অফিসের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *