শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব
তবে লক্ষ্য অর্জন ঠিক রাখতে হলে তার পথও তো ঠিকমতো তৈরি ও অনুসরণ করতে হবে। মেধা ও দক্ষতা ব্যক্তিগতভাবে অর্জন করতে হয়, কিন্তু তার চর্চা ক্ষেত্রবিশেষে সম্মিলিতভাবে বা শ্রেণিভিত্তিকই হয়। যে বিষয়টি ব্যক্তি বা শ্রেণি কোনো ক্ষেত্রেই বাদ দেওয়া যাবে না তা হলো চর্চা—এক অর্থে অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। যার নিজের মাঠে নেমে ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা আছে আর যে টিভিতে খেলা দেখে এর অনুরাগী হলো তাদের ফুটবল জ্ঞান ও ফুটবল-দর্শনে ভিন্নতা ঘটবেই। এ বিষয়ে যার মাঠে অভিজ্ঞতা, ভালো কোচের পাঠ গ্রহণের সুযোগ ঘটে, সে এ বিষয়ে একজন অগ্রগামী ব্যক্তি। নিঃসন্দেহে কোচের গুরুত্ব ব্যাপক, কিন্তু সে গুরুত্ব তার ক্ষেত্রেই ঘটে, যে নিজে খেলে।
ফলে আমাদের সমস্যার জট ছাড়াতে হলে প্রথমে প্রয়োজন শিক্ষায় বিরাজমান পরীক্ষার ফলাফলকেন্দ্রিক মানসিকতার অন্ধবিশ্বাসে চিড় ধরানো। তার জন্য আলোচনাটা সামাজিক পরিসরেই আনতে হবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় বুঝি, ফলকেন্দ্রিক চিন্তার ক্ষেত্র শিক্ষক-অভিভাবকের আঁতাত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং তার পেছনে হাওয়া দেয় গণমাধ্যম। তারা কেবল ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেই ক্ষান্ত হয় না, প্রত্যেক পত্রিকা স্বতন্ত্র শিক্ষা পাতার মাধ্যমে পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও আদর্শ উত্তর ছাপিয়ে যাচ্ছে! যদিও এটি যে শিক্ষার পথে আত্মঘাতী কাজ তা আমরা বুঝে থাকি, তাহলে মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে সামাজিক সংলাপের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে বসা ও আলোচনা করে সত্যিকারের মেধাবী ও দক্ষ মানুষ তৈরির পথে তাদের সহায়তা নিশ্চিত করা। অন্তত মাঝপথে কাজ যেন ভন্ডুল হয়ে না যায়, সেটুকু নিরাপদ করা।
