সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই হাসপাতালগুলোসহ দেশের প্রত্যেকটা হাসপাতালে দালালমুক্ত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এটা দুর্ভাগ্যজনক সত্য যে, একটা শ্রেণি আমাদের রোগীদেরকে ভুল কথা বলে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এই দালালকে ধরার জন্য আমাদের র‌্যাব, ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে। বহু হাসপাতালে হানা দিয়েছে, তাদেরকে গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, “জেলাগুলোতে ডিসি ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে সমানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে এবং ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে। যেখানে অবৈধ চিকিৎসক, ভুয়া সার্টিফিকেটধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়, সব আমরা সিলগালা করছি। আমি নিজে থেকে লিস্ট নিয়ে করছি। একটু সময় তো আমাদের দিবেন, ছয়টা মাস।”

দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক বা নার্স নিয়োজিত রয়েছেন। এই সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত বিরামহীনভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।”

হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি প্রায় ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন।

তিনি আরো জানান, তার পরিদর্শনের পর রোগীরাও জানিয়েছেন যে চিকিৎসকদের আন্তরিকতা আগের চেয়ে বেড়েছে এবং হাসপাতালের খাবারের মানও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ১৭ বছরে ডিসেম্বর ২০-এর পর মিজেলসের (হাম) কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে হামের সংক্রমণ দেখা দেয় বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন এনে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

টিকা দেওয়ার পরও কিছু শিশুর হাম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “হামের টিকা সাধারণত ৬ মাসের নিচের শিশুদের দেওয়া যায় না। গত ২০ এপ্রিল যখন টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল, তখন যে শিশুরা ৫ মাসের নিচে ছিল তারা টিকা পায়নি। পরবর্তীতে তারা ৬ মাস পার করে টিকার উপযুক্ত হলেও নিয়মিত ক্যাম্পেইন না থাকায় টিকা ছাড়া থেকে গেছে।”

তিনি বলেন, “অনেক মা সচেতনতার অভাবে বা খবর না পাওয়ায়, কাজের ব্যস্ততায় কিংবা সন্তান স্কুলে থাকায় যথাসময়ে টিকা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারেননি।”

“এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ ট্যাবলেট ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮৫ লাখ টার্গেটের বিপরীতে ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে কাভার করা হলেও নতুন শিশু যুক্ত হওয়ায় একটি ভ্যাকুয়াম বা গ্যাপ তৈরি হয়। যে কারণে বর্তমানে টিকা না পাওয়া শিশুদের হাম হচ্ছে,” মন্ত্রী বলেন।

তিনি আরো বলেন, “হামকে দমন করার জন্য আমরা আবারো ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি। এই মাসের শেষের দিকে টিকাদানের ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে ।”





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *