সাভারে আবাসিকে-শিল্পে-স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকট
সাভারে গ্যাসের সংকট কাটেনি। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসচালিত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা আবাসিক ও শিল্প এলাকায়।
আবাসিক গ্রাহকরা বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা বা সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। আর গ্যাসের সংকটে শিল্প মালিকদের কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সাভার পৌরসভার কলেজ রোডের কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে কথা হয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তারা জানান, দিন কিংবা রাত, কোনো সময়ই গ্যাস পান না তারা। বিকল্প হিসেবে রান্না শুরু হয়েছে মাটির চুলায়। কেউ কেউ ব্যবহার করছেন সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা। প্রায় দেড় মাস ধরে পুরো সাভারে গ্যাসের এই সংকট চলছে।
সাভার রেডিও কলোনি এলাকায় ভাড়াটিয়া নাজনীন সুলতানা বলেন, “দুই মাস ধরে গ্যাস নেই, আবার লাকড়ি কিনতে হয়। লাকড়িরও সংকট দেখা দিছে।”
তানিয়া আক্তার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “সিলিন্ডার কেনার মতো সামর্থ্য নেই। মাস শেষে গ্যাস বিল দিতে হয় ঠিকই। আমাদের অনেক কষ্ট। এক বেলা খাইলে দুই বেলা খাইতে পারি না গ্যাসের কারণে।”
একই অবস্থা সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। আমিনবাজার, হেমায়েতপুর ও সাভার পৌরসভার সাতটি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে পাঁচটিতে গ্যাসের চাপ থাকে না। সেখানে গ্যাসচালিত প্রাইভেটকার, বাস, অটোরিকশার দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
অটোরিকশার চালক নুর আলম বলেন, “যেমন আটটা বাজে আইছি বেলা বাজে একটা। গ্যাস পাইনি।”
শহীদুল ইসলাম নামে এক বাস চালক বলেন, “আমরা মানিকগঞ্জ থেকে এই সাভার আসছি। কোথাও গ্যাস পাই না। রাত দিন একই অবস্থা।’’
ব্যবসায়ী ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ সময়ে গ্যাসের চাপ ৮ থেকে ১০ পিএসআই পাওয়া যেত। বর্তমানে গ্যাসের চাপ দুই থেকে তিন পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।
সাভারের একটি সিএনজি স্টেশনের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, “সাধারণত একটা সিএনজি স্টেশন চালাইতে হলে ৮ থেকে ১০ পিএসআই লাগে, সেখানে আমাদের আছে তিন পিএসআই।”
সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার পোশাক কারখানার কর্মকর্তা খায়রুল আলম বলেন, “বর্তমানে জেনারেটর চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অয়েল সংগ্রহ করতে হচ্ছে এবং আমাদের আশপাশে যে সকল ইন্ডাস্ট্রিগুলো আছে, সকলে একই সাথে জেনারেটর চালু রাখার জন্য, তাদেরও যে অয়েল সংকট; সেটাও এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।”
এ সব বিষয়ে সাভার তিতাস গ্যাসের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হয়নি।
