সুতিয়া নদীতে প্রাণ গেল দুই স্কুলছাত্রের


ফুটবল খেলার আনন্দ শেষ হওয়ার আগেই নেমে এলো বিষাদের ছায়া। খেলা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে সুতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের পানিতে তলিয়ে প্রাণ হারিয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরের পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের হাজিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো—বাপ্তা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মোকতাসিন (১০) এবং বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বি (১২)। তারা দুজনই বাপ্তা বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কুল বন্ধ থাকায় বুধবার সকালে কয়েকজন বন্ধু মিলে মাঠে ফুটবল খেলতে যায় মোকতাসিন ও রাব্বি। খেলা শেষে বন্ধুরা দলবেঁধে সুতিয়া নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর একে একে অন্যরা তীরে উঠে এলেও মোকতাসিন ও রাব্বির পানিতে তলিয়ে যায়। এর পর নদীর পানিতে রাব্বির মরদেহ ভাসতে দেখে তীরে থাকা কয়েকজন চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জানান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে রাব্বিকে উদ্ধার করেন। একই সময়ে পানির ভেতর থেকে মোকতাসিনকেও উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।

পরে দুজনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাসুদ জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে দুজনকেই মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।

মোকতাসিনের চাচা রনি বলেন, সকালে মোকতাসিন তার মাকে নদীতে গোসল করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা শেষে সে নদীতে গোসল করতে নামে। সে ভালোভাবে সাঁতার জানত না। নদীতে স্রোত বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মোকতাসিনের চাচাতো ভাই শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা শেষে বন্ধুরা একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে। সাঁতার কম জানা ও নদীতে স্রোত বেশি থাকায় হঠাৎ দুজন পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাপ্তা বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা পাঠান মিতা জানিয়েছেন, দুজনই তার বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে শোকাহত।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *