হালচাষের জমিতে মাছ শিকার করছেন স্থানীয়রা
মৌলভীবাজারে চলছে আমন ধানের চারা রোপণের ধুম। আউশ ধান কাটার পরই আমনের চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হয় জমি। এসব জমিতে ভেসে উঠছে দেশীয় মাছ। হালচাষ করার সময় মাছ শিকার করছেন স্থানীয়রা।
কৃষকেরা জানান, আউশ ধান কাটার পর আমন রোপণের জন্য জমিতে মেশিনের মাধ্যমে হালচাষ করা হয়। হালচাষের সময় জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ভেসে উঠে। এসব মাছ শিকার করতে স্থানীয়রা হালের পিছে পিছে ভিড় করেন। নিজেরা খাবারের জন্যও মাছ শিকার করেন কৃষকেরা।
কমলগঞ্জের কৃষক ছমির মিয়া বলেন, এ বছর বৃষ্টি বেশি হয়েছে এজন্য জমিতে মাছের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। অনেক আবার শখের বসে মাছ শিকার করতে নামেন। বিশেষ করে আউশ ধান কাটার পর আমন ধানের চারা রোপণের জন্য যে জমি চাষাবাদ করা হয় এসব জমিতে মাছ বেশি পাওয়া যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ৩৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ করা হয়। বেশিরভাগ জমির আউশ ধান কাটা হয়ে গেছে। এখন আমন ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ লাখ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।
কৃষক ময়নুল ইসলাম বলেন, বাড়ির পাশে মেশিনের মাধ্যমে হালচাষ করা হচ্ছে আমন ধানের চারা রোপণের জন্য। এ সময় দেখলাম মেশিনের পেছনে পেছনে কয়েকজন মাছ শিকার করছেন। বিশেষ করে শিং, মাগুর, পুঁটি, কৈ ও টাকি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পরে আমিও মাছ শিকার করতে নেমে যাই। প্রায় ২ কেজি মাছ ধরেছি।
কৃষক মিজান মিয়া বলেন, আমার আউশধান জমিতে হালচাষ করার সময় প্রচুর পরিমাণে দেশীয় মাছ দেখা যায়। পরে অনেকেই জমি থেকে মাছ শিকার করছেন। আসলে দীর্ঘদিন ধরে জমিতে ধান থাকার কারণে মাছ শিকার করা যায়নি। এখন জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করবো তাই হালচাষের সময় মাছ শিকার করা হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ড. মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘একটা সময় এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় মাছ পাওয়া যেতো। এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রজাতির দেশীয় মাছ হারিয়ে গেছে। বিশেষ করে এ সময়টাতে খালে বিলে মাছ ভেসে বেড়াতো। দেশীয় মাছ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘আউশ ধান কাটার পর আমন রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। যদিও বেশিরভাগ আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়ে গেছে। আউশ ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে।’
মাহিদুল ইসলাম/কেজে/এএসএম
