হাসপাতালে ইমরান খান, স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে তার সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর অবশেষে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হলো। এ ঘটনাকে ইমরানের দল ও পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশে হাসপাতালে
পিটিআই শুক্রবার সাংবাদিকদের পাঠানো এক বার্তায় জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল প্যানেলকে তাকে পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইমরানের বয়স এখন ৭৩ বছর।
দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অভিযোগ
ইমরান খানের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, কারাগারে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেছেন তারা।
তবে পাকিস্তান সরকার বলেছে, চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী ইমরানের এমন কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি, যার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি তাই তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইমরানের দল কি আন্দোলন চালিয়ে যাবে
পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে ‘নতুন আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি জানিয়েছেন, ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ, তার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং মুক্তির দাবিতে দলটি দেশব্যাপী আন্দোলনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী পদযাত্রার কর্মসূচিও রয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৩ সাল থেকে কারাগারে ইমরান
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
ইমরান দাবি করে আসছেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই ইমরান খানের সঙ্গে দেশটির সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক তীব্র বিরোধে রূপ নেয়।
সূত্র: রয়টার্স
কেএএ/
