উড়ছে মোরিনিওর রিয়াল, প্রতিপক্ষের জালে দিল ১ হালি


কিলিয়ান এমবাপে রীতিমত উড়ছেন নতুন মৌসুমে। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর আজ সুপার সানডেতে (৩০ আগস্ট) আবারও গোল করেছেন। সঙ্গে জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত এক গোল, একটি আত্মঘাতী গোল এবং শেষ দিকে আরদা গুলারের আঘাত। সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

দ্বিতীয় দফায় রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর জোসে মরিনিওর শুরুটা এর চেয়ে ভালো আর কী-ই বা হতে পারত! প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়। পরের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারিয়েছিল ৪-১ ব্যবধানে। এবার মালাগার উড়িয়ে দিল ৪-০ গোলে। তিন ম্যাচে তিন জয়, ৯ পয়েন্ট। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বার্সেলোনাকে শুরুতেই বার্তা দিয়ে রাখল রিয়াল।

ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণের ঝড় তোলে স্বাগতিকেরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস পেয়ে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের হাফ ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে গোল না এলেও রিয়ালের উদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল।

১৯ মিনিটে পেল প্রথম সাফল্য। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বল নিয়ে সামনে থাকা দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন বেলিংহাম। এরপর বাঁ কোণে নিখুঁত শট মালাগার গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। রিয়াল এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। গোলটি নিয়ে মালাগার আপত্তি থাকলেও রেফারির সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ভিএআর যাচাই করেও গোল বহাল রাখে।

এর সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে রিয়াল। ব্রাহিম দিয়াজের দৌড়ের পর বল পেয়ে এমবাপে শট নেন। গোলরক্ষক আলফোনসো হেরেরো তা ঠেকালেও বলের গতি থামাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বল জালে গিয়ে জড়ায়। গোলটি পরে হেরেরোর আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

৩০ মিনিটেই ম্যাচ কার্যত রিয়ালের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এবার গোলের কৃতিত্ব পুরোপুরি এমবাপের। আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের চমৎকার ক্রস পেয়ে ফরাসি তারকা শট নেন, বল সরাসরি জালে। আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিকের পর আবারও গোল করে চলেছেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই মালাগার সামনে ব্যবধান কমানোর সুযোগ এসেছিল। কর্নার থেকে রদ্রিগেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে সেই সুযোগের পরও রিয়ালের দুই গোলের ব্যবধান অটুট থাকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল রিয়ালের হাতে। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা স্বাগতিকরা। মালাগা নিজেদের ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও রিয়ালের চাপ তাদের স্বস্তিতে খেলতে দেয়নি।

শেষ দিকে অবশ্য মালাগা পেনাল্টির দাবি তোলে। রেফারি প্রথমে স্পট কিকের সিদ্ধান্ত দিলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল হয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দৃশ্যটিও ছিল রিয়ালের। হাউসেন বল কেড়ে নেওয়ার পর দ্রুত আক্রমণে যায় স্বাগতিকেরা। বাম দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক পেয়ে বদলি আরদা গুলার ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। যোগ করা সময়ে পাওয়া সেই গোলে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৪-০।

শেষ বাঁশির পর বার্নাব্যুতে স্বস্তির উল্লাস। মরিনিওর রিয়াল তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে ১০ বার বল পাঠিয়েছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি গোল। আর ব্যক্তিগতভাবে এমবাপেও ছুটছেন দুর্দান্ত ছন্দে।

মৌসুমের শুরুতেই রিয়ালের বার্তাটা বেশ পরিষ্কার। তারা আধিপত্য দেখিয়েই জিততে চায়। 

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *