লেস্টার ছেড়ে শেফিল্ডে যোগ দিচ্ছেন হামজা!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেফিল্ড ইউনাইটেডের ফলোয়ার রাতারাতি বেড়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না! কারণ ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাবটিতে পাকাপাকিভাবে নাম লেখানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছেন বাংলাদেশি ফুটব্লার হামজা চৌধুরী। ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের খবর, ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়া লেস্টার সিটি ছেড়ে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছেন বাংলাদেশের এই তারকা মিডফিল্ডার।
২৮ বছর বয়সী হামজাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল চ্যাম্পিয়নশিপের আরেক দল ডার্বি কাউন্টিও। তবে শেষ মুহূর্তে শেফিল্ড ইউনাইটেড সেই দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে হামজাকে ব্রামল লেনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। লেস্টারের সঙ্গে তাঁর চুক্তি থাকলেও হামজাকে ফ্রি ট্রান্সফারে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে শেফিল্ড।
হামজার জন্য শেফিল্ড ইউনাইটেড অবশ্য একেবারে নতুন ঠিকানা নয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে লেস্টার থেকে ধারে এই ক্লাবেই খেলেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর পারফরম্যান্সে শেফিল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনালে উঠেছিল।
হামজার মূল পজিশন ছিল মিডফিল্ড হলেও সেবার প্রয়োজনের সময় রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলেছেন তিনি। এবার সেই বহুমুখিতাই শেফিল্ডের আগ্রহের অন্যতম কারণ। রাইট-ব্যাক ফেমি সিরিকি চোটে পড়ার পরই হামজাকে ফেরানোর উদ্যোগ জোরালো হয়েছে বলে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বর্তমানে শেফিল্ডে হামজার মেডিকেল চলছে। সেটি সফলভাবে শেষ হলে চুক্তির আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র সম্পন্ন হবে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে মঙ্গলবার রাতে বোল্টনের বিপক্ষে ম্যাচেই নতুন ক্লাবের হয়ে মাঠে দেখা যেতে পারে তাঁকে। তবে সেই ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরই শেষ হবে দলবদলের সময়সীমা।
হামজার শেফিল্ডে ফেরার সম্ভাবনা তাঁর লেস্টার-অধ্যায়েরও ইতি টানতে পারে। ২০১৪ সালে লেস্টারের যুব একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্লাবটির সঙ্গে ছিলেন তিনি। মাঝের সময়ে বার্টন অ্যালবিয়ন, ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেললেও লেস্টারই ছিল তাঁর মূল ঠিকানা।
লেস্টারের হয়ে হামজা জিতেছেন ২০২১ সালের এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড। ২০২৩-২৪ মৌসুমে জিতেছেন ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও। কিন্তু এরপর ক্লাবটির ভাগ্যে এসেছে দ্রুত পতন। টানা দুইবার অবনমনের পর লেস্টার এখন ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে খেলছে।
সেই বাস্তবতায় লেস্টার থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে ফেরার সুযোগ হামজার ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আর পুরোনো পরিচিত শেফিল্ড ইউনাইটেডই যদি হয় নতুন ঠিকানা, তাহলে বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্যও সেটি হতে পারে বেশ চেনা এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।
