কথা বললেই চাকরি নেই, কষ্ট-যন্ত্রণা যেন নিত্যসঙ্গী ফুডপান্ডা রাইডারদের


দেশের অনলাইন ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় বড় নাম ফুডপান্ডা। কিন্তু এই ব্যবসার চাকা যাদের ঘামে ঘোরে, সেই রাইডারদের অভিযোগ দিন দিন তাদের শ্রমের মূল্য কমছে, অথচ বাড়ছে চাপ, নিয়ম আর শাস্তি।

একসময় একটি ডেলিভারিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পাওয়া গেলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পাওয়ার অভিযোগ করছেন রাইডাররা। প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরত্বের একটি ডেলিভারির জন্য ৩২ টাকা পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত খরচ ও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও কেন একজন রাইডারকে আগের তুলনায় আরও বেশি সময় রাস্তায় থাকতে হচ্ছে?

একজন রাইডারের দাবি, আগে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা কাজ করেই যে আয় করা যেত, এখন একই আয় করতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। তার ওপর ডেলিভারিতে সামান্য দেরি হলেই লেট ফি, বিভিন্ন অভিযোগে পেনাল্টি, এমনকি সাসপেনশনের অভিযোগও রয়েছে। অথচ ঢাকার ভয়াবহ যানজট, বৃষ্টি, রাস্তার অবস্থা কিংবা রেস্টুরেন্টে খাবার প্রস্তুতিতে দেরি-এসবের নিয়ন্ত্রণ একজন রাইডারের হাতে নেই।

তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে- রাইডার যদি স্বাধীনভাবে কাজ করেন, তাহলে তার ওপর এত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি কেন? আর যদি এত নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণই থাকে, তাহলে সেই অনুযায়ী ন্যায্য পারিশ্রমিক ও কাজের নিরাপত্তা কোথায়?

রাইডাররা দয়া চান না। তারা চান তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য। প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা গ্রাহকের খাবার পৌঁছে দেন, তাদের শ্রমকে শুধু একটি অর্ডারের ৩০-৩৫ টাকার হিসাবে দেখলে চলবে না।

ব্যবসা বড় করার পাশাপাশি যারা সেই ব্যবসাকে প্রতিদিন সচল রাখছেন, তাদের জীবন ও জীবিকার কথাও ভাবতে হবে। রাইডারদের অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রশ্ন একটাই লাভের হিসাবের বাইরে ফুডপান্ডার কাছে কি রাইডারদের শ্রমেরও কোনো মূল্য আছে?



বাপ্পি/সা.এ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *