গুমের অপরাধীদের বিচার ও সঠিক আইন প্রণয়নের দাবি
‘স্বজনেরা কি বেঁচে আছেন’
মানবাধিকারকর্মী ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাবেক প্রধান নূর খান লিটন বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ নতুন এক পথচলা শুরু করলেও গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর মনে এখনো একটিই প্রশ্ন—তাঁদের স্বজনেরা কি বেঁচে আছেন? গুম কমিশনের মাধ্যমে কিছু ঘটনার আভাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত কোনোটিরই সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হয়নি।
নূর খান বলেন, গুমের ঘটনাগুলো ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ডিবি, র্যাব বা ডিজিএফআই পরিচয়ে ব্যক্তিদের তুলে নেওয়া হতো; কিন্তু আজ পর্যন্ত এসব ঘটনার হোতাদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।
গুম কমিশন বা মানবাধিকার কমিশনের জন্য প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে অনেক ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, অধ্যাদেশে ‘আন্তঃবাহিনী তদন্তের’ যে কথা বলা হচ্ছে, তাতে ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব। যে বাহিনী অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের মাধ্যমেই তদন্ত করা হলে সত্য কখনো বেরিয়ে আসবে না।
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর পার হলেও আমরা আজও গুমের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়তে পারিনি। যেসব আইন বা কমিশন গঠন করা হচ্ছে, সেগুলো যদি কেবল কাগজে-কলমে থাকে এবং বাস্তবে জনগণের অধিকার রক্ষায় ‘বিকলাঙ্গ’ হয়ে পড়ে, তবে তার কোনো মূল্য নেই। একজন ভুক্তভোগী হিসেবে এমন প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।
