টানেলে আটকে ৬০০ জন, উদ্ধারের জন্য পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটালো নেপাল
নেপালের ত্রিশূলি নদীর পাশে কাদাভর্তি টানেলগুলোতে আটকে আছেন ৬০০ জনেরও বেশি শ্রমিক। তাদের পরিবারের আশা-দ্রুতই উদ্ধার করা হবে প্রিয়জনদের। কঠিন এই লক্ষ্য পূরণে সোমবার (৩১ আগস্ট)পাহাড়ি জায়গাটিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। এরপর তারা ত্রিশূলি ৩-এ সাইটে বাতাস সরবরাহ শুরু করেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, এখন পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হওয়া আকস্মিক এক বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি। বন্যায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত যতজন নিখোঁজ হয়েছেন, পরিসংখ্যান বলছেন তাদের প্রতি সাত জনের এক জনই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী। খবর বিবিসির।
বর্তমানে উদ্ধারকাজের নেতৃত্বে রয়েছে চীন ও নেপালের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল। এই দলে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন।
প্রোজেক্ট সাইটে নিখোঁজ ৩৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী আরুষ ভান্ডারির স্ত্রী অনুশীলা ভান্ডারি বলেন, যদি সে ফিরে আসতো! যদি তাকে খুঁজে পেতাম।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজ এক কর্মীর স্ত্রী সিতা পান্ডে বলেন, আমার এখনো ৫০ শতাংশ আশা রয়েছে যে সে বেঁচে আছে। কারণ ভেতরে একটি অক্সিজেন সিস্টেম রয়েছে।
নেপাল জলবিদ্যুতের ওপর অনেক বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল এবং পার্বত্য অঞ্চলে নদী ব্যবস্থায় এসব বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলতে বছরের পর বছর ব্যয় করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় অন্তত ১১টি নির্মাণ সম্পন্ন বা নির্মাণাধীন জলবিদ্যুত প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকারী একটি দল সোমবার এই প্রকল্পের একটি টানেলে ঢুকতে সক্ষম হয়। কিন্তু সেখানে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে।
আটকে পড়া এক ব্যক্তির আত্মীয় বলেন, যত সময় যাবে, তত আমাদের আশা ফুরিয়ে যাবে। উদ্ধারকাজ আরও অনেক দ্রুতগতিতে করা উচিত কারণ আমাদের কাছে প্রতিটি সেকেন্ডই মূল্যবান। উদ্ধারকাজ খুবই ধীরগতিতে চলছে।
আপার ত্রিশূলি-১ প্ল্যান্টে কাজ করার সময় নিখোঁজ হয়েছেন মিলন। তার বোন প্রিয়া খারেল বলেন, যারা এখন পর্যন্ত ফিরে এসেছে তারা বলেছে যে, টানেলের ভেতরে আরও মানুষ আছে। তাই বলা যায়, এখনও আশা আছে যে সেনাবাহিনী দ্রুত সেখানে পৌঁছাবে এবং তাদের বাঁচাবে।
এএমএ
