হৃদয়-জাকেরের ব্যাটিংয়ে দ. আফ্রিকায় স্বস্তিতে বাংলাদেশ


সোমবারের (৩১ আগস্ট) আগ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য হতাশারই ছিল। প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে চরম ব্যর্থ ছিল ব্যাটসম্যানরা। তবে পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় ম্যাচের দ্বিতীয় দিনটি কিছুটা অন্যরকম।

ভিসা জটিলতায় প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারা তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলি ফিরলেন দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে। ব্যাট হাতে দলের বিপদের সময় দুজনই হয়ে উঠলেন ঢাল। তার আগে বল হাতে প্রথম দিনের হতাশাও অনেকটা পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। সব মিলিয়ে বড় সংগ্রহের চাপ নিয়েও দিনটি ভালোভাবেই শেষ করেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

প্রথম দিনে ৪ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে শেষ করা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল দ্বিতীয় দিনে গুটিয়ে গেছে ৫১২ রানে। অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনে ১৪০ রান যোগ করতেই তারা ৬ উইকেট হারিয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে অফ স্পিনার নাঈম হাসান নিয়েছেন ৪ উইকেট, বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ পেয়েছেন ৩টি।

দিনের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে আঘাত হানেন রেজাউর রহমান রাজা। আগের দিন ১১১ রানে অপরাজিত থাকা কিপার-ব্যাটসম্যান সিনেথেম্বা কেশিলেকে ১৭ রান যোগ করতেই বোল্ড করে ফেরান তিনি। কেশিলের ইনিংস থামে ১২৮ রানে।

এরপর ডেলানো পটগিটারকেও দ্রুত ফেরান নাঈম হাসান। তবে গ্যাভিন ক্যাপলান ও কাইল সিমন্ডসের ব্যাটে আবারও বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় প্রোটিয়া ‘এ’ দল।

শতকের খুব কাছে গিয়ে থামেন ক্যাপলান। ২৩ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে অষ্টম শতকের অপেক্ষায় থাকা এই ব্যাটার ৯৭ রানে বোল্ড হন হাসান মুরাদের বলে।

এরপর দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন সিমন্ডস। আট নম্বরে নেমে মাত্র ৪১ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। আটটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসেই ৫০০ পেরোয় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ১১৫.১ ওভারে ৫১২ রানে থামে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস।

বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় মাত্র ৯ রান করে ফেরেন। আগের ম্যাচের দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ১৯ ও ১ রান। তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও পারেননি ইনিংস বড় করতে। ৫ রান করেই থামেন তিনি।

এরপর মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও তাওহিদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৩৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে প্রাথমিক বিপদ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছিল। তবে ৩৪ রানে নাঈম শেখ আউট হলে আবারও চাপ বাড়ে।

হৃদয়ের সঙ্গে এবার জুটি বাঁধেন আফিফ হোসেন। কিন্তু আগের ম্যাচের মতো এবারও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ৮ ও ৬ রানের পর এবার আফিফের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে চাপ স্পষ্ট। চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর প্রয়োজন ছিল বড় একটি জুটির। সেই দায়িত্বই নেন হৃদয় ও জাকের।

এই দুই ব্যাটসম্যান দিনের শেষটা এনে দেন স্বস্তির। পঞ্চম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৬৬ রান। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২০১ রান।

জুনে টেস্ট অভিষেক হওয়া তাওহিদ হৃদয় ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৫ রানে অপরাজিত। অন্য প্রান্তে জাকের আলির ৪৭ রানের ইনিংসে আছে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ৫১২ রানের জবাবে বাংলাদেশ এখনও ৩১১ রানে পিছিয়ে। ব্যবধানটা বড়, কিন্তু দিনের শেষের দৃশ্যটা বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক।

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *