কলকাতা ও মুম্বাইয়ের লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারানোর ‘তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে’


সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হওয়ার কারণে কলকাতা ও মুম্বাইয়ের লাখ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারানোর ‘তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে’ রয়েছেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবেলার উপায় ও পন্থা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এখন আর কোনো দূরবর্তী হুমকি নয়: এটি বর্তমান কালেই ঘটছে, নথিভুক্ত ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে এবং এর গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় রাষ্ট্রের বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার জন্য অন্যতম গভীরতম হুমকিতে পরিণত করেছে।”

সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইতিমধ্যেই শহুরে অবকাঠামো, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ গ্রিড, ভবন এবং ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদের ক্ষতি করছে। এগুলো সুদূরপ্রসারী পরিণতি সৃষ্টি করছে এবং মানবাধিকারের কার্যকর ভোগ, দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঝুঁকিগুলোর প্রকৃতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ও নিউইয়র্ক এবং চীনের গুয়াংঝৌ-এর মতো উচ্চ-আয়ের শহরগুলোতে এর প্রধান প্রভাব হলো উপকূলীয় অবকাঠামোর বিপুল আর্থিক ঝুঁকি। ওই শহরগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২ ট্রিলিয়ন থেকে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “দক্ষিণ এশিয়ার নিম্নভূমির ব-দ্বীপগুলোতে, ভারতের কলকাতা ও মুম্বাই এবং ঢাকার মতো শহরগুলোতে, সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো মানুষের বাস্তুচ্যুতি, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হয়ে তাদের ঘরবাড়ি হারানোর তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে রয়েছে।”

এতে আরো বলা হয়েছে, এই ভিন্নতা উপকূলীয় দুর্বলতা ও ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত সূচকগুলোকে শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যাতে আর্থিক পরিমাপে নির্ধারিত ঝুঁকির মতোই মানবজীবন ও বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে পরিমাপ করা সামাজিক ঝুঁকিগুলোও সমান গুরুত্ব পায়।

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *