কলেজ শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে কেন প্রশ্ন ওঠছে?
আলীগড় কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজ বাংলার মুসলমান জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রপরিচালনার মূল স্রোতোধারায় নিয়ে আসে। এসব প্রতিষ্ঠানে বাঙালি মুসলমানদের প্রবাদপুরুষেরা শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। এই ইসলামিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল কুদরাত–এ–খুদা বাংলায় বিজ্ঞান আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন।
ষাট–সত্তরের দশকের উজ্জ্বলতম পুরুষেরা বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঔপন্যাসিক শওকত ওসমান, নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদ, দার্শনিক সাইদুর রহমান, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আবুল ফজল, আ ন ম বজলুর রশীদ, আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন, মঞ্জুশ্রী রায়চৌধুরী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, কবীর চৌধুরী প্রমুখ। তখন কিন্তু কলেজের শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি।
শূন্য দশকের পর যখন সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার হিড়িক পড়ে গেল, বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠল সহজ কর্মসংস্থানের উপায়, তখনই কলেজীয় শিক্ষাব্যবস্থা আক্রান্ত হতে শুরু করল। ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের মাধ্যমে সে যাত্রার সূচনা। পরবর্তী সময়ে দেশের একমাত্র সরকারি আর্ট কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে যায়।
দেখা গেল একই প্রতিষ্ঠান একই অবকাঠামো একই উৎস থেকে অর্থের আগমন; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকসংখ্যা ও অর্থ বরাদ্দে আমূল পরিবর্তন এল। ফলে কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর ছাত্র–শিক্ষক উভয়ের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠল। অবশ্য এর ফলে শিক্ষাব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
