দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, আশুলিয়ায় খুলল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস লেন


দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুটি সার্ভিস লেন সেতু। বুধবার সকাল থেকে প্রতিটি ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনবিশিষ্ট সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সড়কটি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে যানবাহন চলাচলের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস লেন খুলে দেওয়া হয়।

উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলো। বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে প্রকল্পটির কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ একটি অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পুরো কাজ শেষ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

এ সময় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম,আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম সহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দুই সংসদ সদস্যই বহুল প্রতীক্ষিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ চালু হওয়ায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি ভবিষ্যতে আর থাকছে না। ফলে যানবাহনগুলো টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে তুরাগ নদ পারাপার করতে পারবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হওয়াসহ খানাখন্দ ও তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষকে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও দূরপাল্লার যাত্রীদের প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।

তবে সার্ভিস লেন দুটি খুলে দেওয়ায় সেই ভোগান্তির কিছুটা অবসান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা।

উল্লেখ্য, রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। একনেকে অনুমোদনের পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

নানা জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ দীর্ঘদিন ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগের শেষ ছিল না এ অঞ্চলের মানুষের। তবে সম্প্রতি নির্মাণকাজে গতি আসায় চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ।

দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকায়।

সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের পাশাপাশি নতুন নকশায় বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তিনতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ।

তুরাগ নদের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে প্রকল্পের অংশ হিসেবে সেতু ও সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এর একটি অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে আশুলিয়াবাসীর মধ্যে।



রোহান/সা.এ.





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *