ফ্যাটি লিভার থেকে সুরক্ষা দিতে পারে টমেটোর এই যৌগ
মজার ব্যাপার হলো, পাকা লাল টমেটো হাতে নিলে এই ফাইটোইন আপনার চোখে পড়বে না। এটি মূলত এমন একটি প্রাকৃতিক আদি উপাদান, যাকে ভেঙে গাছপালা পরবর্তীতে লাইকোপেন বা অন্যান্য ক্যারোটিনয়েড তৈরি করে। এই ক্যারোটিনয়েডগুলোই বিভিন্ন ফল ও সবজিকে লাল, হলুদ ও কমলা রঙে রাঙিয়ে তোলে। অর্থাৎ, ফাইটোইন হলো সেই পর্দার আড়ালের কারিগর, যে নীরবে নিজের কাজটুকু করে যায়।
ফ্যাটি লিভার বর্তমান সময়ের এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যসংকট। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ১০ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই রোগে ভুগছেন। যাদের স্থূলতা বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের ৭৫ শতাংশই এই রোগের শিকার। লিভারকে যদি একটি গুদামঘর হিসেবে কল্পনা করেন, তবে অতিরিক্ত চিনি ও শর্করা সেই গুদামে চর্বির বস্তা হিসেবে জমতে থাকে। জমতে জমতে একসময় লিভারে মারাত্মক প্রদাহ তৈরি হয়, যা শেষমেশ সিরোসিসের মতো ভয়ংকর রূপ নেয়। ফলে লিভারের টিস্যুগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
টাফটস ইউনিভার্সিটির এই গবেষণার প্রধান লেখক না ইয়ুন লি জানান, ‘আগের গবেষণাগুলো থেকে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, শরীর লাইকোপেনের চেয়ে ফাইটোইনকে অনেক দ্রুত ও সহজে শুষে নিতে পারে।’ এটি আসলেই কতটা কাজ করে, তা নিশ্চিত হতে গবেষকরা ইঁদুরের ওপর টানা ছয় মাস একটি নিবিড় পরীক্ষা চালান। ইঁদুরগুলোকে এমন সব পরিশোধিত শর্করা ও চিনিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়, যা মানুষের ফ্যাটি লিভার তৈরির প্রধান কারণ। এরপর অর্ধেক ইঁদুরকে আলাদা করে ফাইটোইন দেওয়া হয়। মানুষের রোজকার খাবারের মাপে হিসাব করলে এই ফাইটোইনের পরিমাণ দিনে ৩ থেকে ৪টি মাঝারি আকারের কাঁচা টমেটোর সমান।
