বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ল ‘হনুমান অংশ’: টপকে গেল যশের ‘টক্সিক’-কে


বলিউডের চকচকে দুনিয়ায় যেখানে মেগা বাজেট আর তারকা বহুল ছবিই প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে মাঝে মাঝে এমন কিছু সৃষ্টি আত্মপ্রকাশ করে যা সমস্ত সমীকরণ উল্টে দেয়। ২০২৬ সালের আধ্যাত্মিক ধারার সিনেমা ‘হনুমান অংশ’ তেমনই এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। মাত্র ২ কোটি টাকার ক্ষুদ্র বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি গত ৭ আগস্ট মাত্র ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে বক্স অফিসে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে মাউথ পাবলিসিটি বা মুখে মুখে প্রচারের জাদুতে ছবিটির সাফল্যের গ্রাফ রাতারাতি আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। মাত্র ২৬ দিনে ছবিটির নেট কালেকশন ছাড়িয়ে গেছে ৫৪.১৩ কোটি টাকা এবং গ্রস কালেকশন পৌঁছেছে ৬৩.৮২ কোটিতে!

সাফল্যের নেপথ্যে কার্তিক ও চমকপ্রদ বক্স অফিস লড়াই

এই অসামান্য সাফল্যের মূল কারিগর ছবির লেখক ও পরিচালক ডা. বিশাল চতুর্বেদী। ‘হনুমান অংশ’-এর মাধ্যমে তিনি যেভাবে আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও আবেগকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা এককথায় অভূতপূর্ব।

ছবির শুরুটা ধীরগতির হলেও দর্শকদের ভালোবাসায় এর বক্স অফিস কালেকশন এক নতুন ইতিহাস গড়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মুক্তির ২৬তম দিনেও ‘হনুমান অংশ’ নেট আয় করেছে ৮.৫০ কোটি টাকা, যেখানে তারকা অভিনেতা যশের বহুল আলোচিত ছবি ‘টক্সিক’ একই দিনে আয় করেছে ৮.২০ কোটি টাকা! সীমিত স্ক্রিন ও স্বল্প সম্পদ নিয়ে এমন সাফল্য বর্তমান চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিরাট মাইলফলক।

চিকিৎসক থেকে সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা: বিশাল চতুর্বেদীর জীবনপথ

পরিচালক বিশাল চতুর্বেদীর জীবনযাত্রা সচরাচর ফিল্মমেকারদের মতো সাধারণ পথে চলেনি। লখনউয়ে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিশাল ২০০৬ সালে গোরক্ষপুর থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ওই বছরই হালদওয়ানীতে কর্মরত অবস্থায় তাঁর জীবনে এক আধ্যাত্মিক মোড় আসে। উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত কৈচি ধামে গিয়ে তিনি প্রথমবার **নীম করোলি বাবা**র সান্নিধ্য লাভ করেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করে। প্রায় দুই দশক ধরে সেই ভাবনা লালন করার পর অবশেষে তা রূপ নিয়েছে ‘হনুমান অংশ’ চলচ্চিত্রে। অভিষেক ছবিতেই এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই বিরল।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বিশাল

পরিচালক হওয়ার অনেক আগে থেকেই বিশাল চতুর্বেদী নানা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গত ১৪ বছর ধরে তিনি কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ফিল্মমেকিং এবং রন্ধনশিল্পের মতো বিভিন্ন ভেঞ্চারে নিজেকে মেলে ধরেছেন। লেখক, গবেষক, শেফ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তা— বিভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত এই মানুষটি ‘দ্য ইন্ডিয়ান থিংক’ এবং ‘হাউলি কাও হোম প্রোডাকশনস’-এর মতো সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।

ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ঘরোয়া খাবার ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর রয়েছে গভীর টান। তবে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য আরও বড়— বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার মতো ১০০টি অরিজিনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি তৈরি করা।

মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় খাতা খুলে ৫৪ কোটির মাইলফলক ছোঁয়া— ‘হনুমান অংশ’ ও বিশাল চতুর্বেদীর এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, খাঁটি গল্প আর বিশ্বাস থাকলে বাজেট কখনো সাফল্যের অন্তরায় হতে পারে না। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিভাবান নির্মাতার পরবর্তী সৃষ্টি দর্শকদের জন্য আর কী চমক নিয়ে আসে।

সূত্র: আজকাল ইন



বাপ্পি/সা.এ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *