উগান্ডার সামরিক ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে গোপনে সাহায্য করছে ইসরায়েল


উগান্ডা বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে। ইসরায়েল উগান্ডাকে তার ড্রোন ও নজরদারি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে। নতুন ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

এই নথিগুলো এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন উগান্ডা একটি প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক ‘স্থিতিশীলতা বাহিনী’-র অংশ হিসেবে গাজায় সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। উগান্ডার সংসদ গত মাসে এই সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।

ড্রপ সাইট নিউজের হাতে আসা ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথি থেকে দেখা গেছে, ইসরায়েল বছরের পর বছর ধরে উগান্ডাকে তার সামরিক ড্রোন ও নজরদারি সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে আসছে। এই নথিগুলো ইসরায়েলের একটি প্রধান প্রতিরক্ষা সংস্থা এলবিট সিস্টেমসের সাথে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর মধ্যে একটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। চুক্তিটির মূল্য ছিল ৫২ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার এবং এর আওতায় চারটি হার্মিস ৯০০ ড্রোন, নজরদারি সরঞ্জাম এবং গ্রাউন্ড সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

নথি অনুযায়ী, এই সরঞ্জামগুলো উগান্ডার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং এর বিশেষ বাহিনী কমান্ডের জন্য নির্ধারিত ছিল।

নথি থেকে দেখা যায়, উগান্ডার ড্রোন কর্মসূচি বেশ কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল। এলবিট ২০১৯ সালে একটি সংস্কারকৃত হার্মিস ৪৫০ সিস্টেম সরবরাহ করেছিল। ২০২০ এবং ২০২১ সালে আরো সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোম্পানিটি নতুন হার্মিস ৯০০ ড্রোন সরবরাহ করতে এবং ড্রোন বহরের নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সম্মত হয়।

নথিগুলোতে স্কাইস্ট্রাইকারের কথাও উল্লেখ আছে, যা এলবিটের তৈরি একটি অস্ত্র এবং এটি লক্ষ্যবস্তু খোঁজার সময় আকাশে থাকতে পারে ও সেটিকে আক্রমণ করতে পারে। ২০২২ সালের আরেকটি নথিতে বলা হয়েছে, এলবিট উগান্ডায় লিজার্ড ৩ ব্যবহার করে অস্ত্র নিক্ষেপ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এটি এমন একটি সিস্টেম যা সাধারণ বোমাকে আরো নির্ভুল, নির্দেশিত অস্ত্রে পরিণত করতে সাহায্য করে।

এলবিট উগান্ডাকে তাদের ড্রোন পরিচালনার জন্য স্থাপনা তৈরিতেও সাহায্য করছিল বলে মনে হয়। ২০২১ সালের একটি চুক্তিতে একটি ড্রোন ঘাঁটির জন্য সরঞ্জামের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যেখানে ড্রোনগুলোর উড্ডয়ন ও অবতরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যেত।

২০২৪ সালের আগস্টে, উগান্ডার প্রতীক বহনকারী একটি ড্রোন পূর্ব কঙ্গোতে বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দলের একটি প্রতিবেদনে এটিকে হার্মিস ৯০০ মডেলের ড্রোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *