গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফারে সবচেয়ে লাভবান কি চেলসি


গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজার বন্ধ য়েছে। ইউরোপে সবচেয়ে ব্যস্ততম সময় পার করা ক্লাব ছিল চেলসি। এক গ্রীষ্মেই ৫০ জন খেলোয়াড়ের লেনদেন করেছে লন্ডনের ব্লুজরা।

রোমান আব্রামোভিচ যুগের পর থেকেই বিপুল অর্থে তরুণ খেলোয়াড় কিনে স্কোয়াড পুনর্গঠনের নীতি নিয়েছিল চেলসি। এবার সেই নীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। ১১ খেলোয়াড় কিনতে প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করলেও বিক্রি ও ধারে খেলোয়াড় পাঠিয়ে আয় করেছে তার চেয়েও বেশি। ক্লাবের হিসাবে, খেলোয়াড় বিক্রিসহ পুরো গ্রীষ্মের লেনদেনে মুনাফা প্রায় ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড।

চেলসি এবারের দলবদলের বাজারে ৩৯ জন ফুটবলারকে বিক্রি করেছে কিংবা ধারে পাঠিয়েছে। চেলসির অভ্যন্তরীণ হিসাবে খেলোয়াড় ছাড়ার মাধ্যমে তাদের আয় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে ধারে পাঠানোর ফিও রয়েছে। অবশ্য স্বাধীন হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত ট্রান্সফার আয় প্রায় ৩৮২ মিলিয়ন পাউন্ড।

এই গ্রীষ্মে এনজো ফার্নান্দেজকে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ডসম অংকে বিক্রি করে চেলসির বড় আয় হয়েছে। তাছাড়া, নিকোলাস জ্যাকসনকে অ্যাস্টন ভিলায় ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে এবং মার্ক কুকুরেয়ার রিয়াল মাদ্রিদে ৫১.৮ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি করেছে তারা। লিয়াম ডেলাপ ও আন্দ্রে সান্তোসও প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে ক্লাব ছেড়েছেন।

শুধু বড় বিক্রিই নয়, ধারে পাঠানো খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ আয়ের রাস্তা খোলা রেখেছে চেলসি। মিখাইলো মুদরিক টটেনহামে গেছেন ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্ভাব্য ক্রয়-অপশনসহ, আর আলেহান্দ্রো গারনাচো অ্যাস্টন ভিলায় গেছেন প্রায় ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বাধ্যতামূলক ক্রয়-শর্তে।

অর্থাৎ, কয়েক বছর ধরে যেই চেলসিকে ‘ফুটবলার কেনার নেশায়’ থাকা ক্লাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, সেই চেলসিই এখন খেলোয়াড়কে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ তুলে আনছে।

২০২২ সালে বোয়েলি ও ক্লিয়ারলেকের মালিকানায় যাওয়ার পর চেলসি ট্রান্সফার ফিতে প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে। বিপরীতে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। এর আগে টানা তিন গ্রীষ্মে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে আয় ছিল যথাক্রমে ২৩৬, ১৭৮ ও ২৮৯ মিলিয়ন পাউন্ড।

তবে এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু হিসাব-নিকাশ নয়, মাঠের ব্যর্থতাও বড় কারণ। গত মৌসুমে পিএসজির কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া এবং প্রিমিয়ার লিগে ১০ম হয়ে শেষ করার পর ক্লাবের ভেতরে আগের মডেল নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।

নীতি পরিবর্তন হলেও চেলসি এবারও তাই তরুণ প্রতিভা কেনার থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি, তবে সেই সঙ্গে যোগ করেছে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব। জর্ডান হ্যান্ডারসন, ড্যানি ওয়েলবেক ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে আনা হয়েছে। মরগান রজার্স ও ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ার মতো খেলোয়াড়রা যোগ করেছেন প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *