মেয়ের সামনে মৃত মায়ের একটিমাত্র শেষ ইচ্ছার গল্প


মহিমার মৃত্যুর পর মেয়ে কুমকুমের সামনে আসে মায়ের একটিমাত্র শেষ ইচ্ছা – জানাজা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে একের পর এক বাধার মুখোমুখি হতে থাকে সে। কোথাও ধর্মীয় বিধান, কোথাও সামাজিক নিষেধ, আবার কোথাও ক্ষমতার অদৃশ্য হিসাব তার পথ আটকে দেয়।

মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কুমকুম উপলব্ধি করে, মানুষকে আটকে রাখার সবচেয়ে শক্ত দেয়াল সবসময় ইট-পাথরের তৈরি নয়। পরিচয়, ভয় ও নিষেধের দেয়ালও মানুষের সামনে তৈরি করতে পারে দুর্ভেদ্য বাধা।

এর মধ্যেই বারবার ফিরে আসে মহিমার ফেলে যাওয়া মঞ্চ। স্মৃতির পর্দা উঠতে থাকে, আর অতীতের চরিত্রগুলো যেন বর্তমানের বাস্তবতায় এসে দাঁড়ায়। কখনো দ্রৌপদীর প্রশ্ন, কখনো বেহুলার দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আবার কখনো সীতার অগ্নিপরীক্ষা। মঞ্চের অভিনয় আর জীবনের বাস্তবতা ধীরে ধীরে একাকার হয়ে যায়।

এমন গল্পে মঞ্চে আসছে নাট্যদল থিয়েটার চারণিকের নতুন প্রযোজনা ‘কালযাত্রা: একটি নিষিদ্ধ জানাজার গল্প’। এটি দলটির ষষ্ঠ প্রযোজনা। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় দেখা যাবে নাটকটি।

পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বরও একই স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় প্রদর্শনী।

মৃত্যুর পর এক যাত্রাশিল্পীর শেষ ইচ্ছাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে ‘কালযাত্রা’র গল্প। নাটকটি লিখেছেন মাহফুজা হিলালী এবং নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর। একক অভিনয়ে থাকছেন সাফিয়া খন্দকার রেখা।

নাটকের গল্পে কুমকুমের মা প্রিন্সেস মহিমা ছিলেন একজন খ্যাতিমান যাত্রাশিল্পী। মঞ্চে কখনো সীতা, কখনো দ্রৌপদী, আবার কখনো বেহুলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে পালা ও চরিত্র বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি তার জীবনের অপমান, ক্ষত আর না-পাওয়ার গল্প।

নাট্যকার মাহফুজা হিলালী বলেন, পথপরিক্রমা শেষে শিল্পীরাই সবচেয়ে অবহেলিত, প্রশ্নবিদ্ধ ও নির্যাতিত হন। এর মধ্যে নারী শিল্পীদের ওপর নিপীড়নের মাত্রা আরও বেশি। শিল্পের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ থাকার কথা না থাকলেও সমাজের বাস্তবতায় নারী শিল্পীরাও অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন। সেই বিষয়গুলোই নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্দেশক শামীম সাগরের ভাষ্যে, ‘কালযাত্রা’ শুধু একটি নাটক নয়; এটি সময়, সমাজ ও নিজেদের বিবেকের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা। কুমকুমের চোখ দিয়ে দর্শক একজন যাত্রাশিল্পীর অবহেলা, অপমান, অনিশ্চয়তা ও পরিচয়ের সংকট দেখতে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নয়, বরং ধর্মের নামে মানুষের তৈরি ক্ষমতা, সংকীর্ণতা, ভয় ও নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্ন করাই নাটকটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *