নতুন আঙ্গিকে সাজবে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’
চট্টগ্রামের কালুরঘাটে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে নতুন করে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগান নিয়ে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সময় তিনি এ কথা জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমাদের মানুষের জন্য সুস্থ পরিবেশে বিনোদনের জায়গাগুলো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে যেসব স্থাপনা আছে, ইতিহাস ভালোবাসেন ও দেশের সংস্কৃতিকে ধারণ করে এমন কেউ এখানে আসলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা পাবে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক একটি স্থান কালুরঘাট, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে জড়িত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। সেখান থেকে এটি শহীদ জিয়া কমপ্লেক্স।
তিনি বলেন, এখানকার মানুষের আবেগ ও উচ্ছ্বাস রয়েছে। এই জায়গাটিকে কিভাবে আরো বেশি সুন্দর করা যায়। আমরা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি। ৫ অগাস্টের পরে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স ভাংচুর করা হয়েছে এবং সেখানে অনেক স্থাপনাগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই কমপ্লেক্সটি যারা তখন পরিচালনা করত তারা রেখে চলে গিয়েছে। এই কমপ্লেক্সকে আরো কিভাবে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায় সেই লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি। সাধারণ মানুষ এখানে আসতে চায়। দেখতে চায়। তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে খুব দ্রুত।
তার আগে জেলা প্রশাসন কমপ্লেক্সকে একটি পর্যায়ে নিতে চায় জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। তাই এই জায়গাটি আজ পরিচ্ছন্ন করতে এখানে সমবেত হয়েছি। পুরো জায়গা আমরা পরিষ্কার করব। সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ বিনোদনের জায়গা এখানে এসে পায়।
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র সংলগ্ন ১৬ দশমিক ৩৮ একর জায়গা জুড়ে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’। পরে নাম পাল্টে হয় ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’।
এখানে ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল, জাতীয় সংসদ ভবন, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হল, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ছোট সোনা মসজিদ, কান্তজিউ মন্দির, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার প্রতিরূপ নির্মাণ করা হয়। এ কারণে কমপ্লেক্সটি লোকমুখে পরিচিতি পায় ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর এখানে ভাংচুর চালানো হয়। এরপর থেকে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই কমপ্লেক্সটি। অযত্ন-অবহেলার এখানকার বিভিন্ন স্থাপনা জঙ্গলে ঢেকে গেছে। কোনোটিতে দেখা দিয়েছে ফাটলও। ১২ অগাস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কমপ্লেক্সটির নাম ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
