বরগুনায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সামারী ট্রায়াল অব্যাহত
ক্রমশই প্রতিনিয়ত বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও মাদকের মতো সামাজিক বেহায়াপনা অপরাধ। পাশাপাশি বেড়েছে পকেটমারদের উপদ্রপ। চায়ের দোকান, মসজিদ কিংবা হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বারগুলোও রেহাই পাচ্ছে না এদের হাত থেকে। যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেবল তাই নয়, ধরা পড়লে দিচ্ছে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশকেও দেখে নেওয়ার হুমকি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টম্বর) দুপুরে বরগুনা আল্লাহ মালিক হসপিটাল লিঃ -এ চিকিৎসা নিতে আসা তিন রোগীর পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল চুরি হয়ে যায়, যা এক পর্যায়ে নেশাগ্রস্থ ওই ব্যক্তি ধরা পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে বিষয়টি বরগুনা থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিৎ হয়ে আটককৃত বরগুনা পৌরসভার চরকলোনী এলাকার বাসিন্দা মোঃ ফিরোজ এর ছেলে মোঃ ফয়সাল (২২) কে আটক করে তারা (পুলিশ)।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য সেবন করে অসংলগ্ন আচরণ করায় পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক করা হয় বরগুনা পৌরসভার খাড়াকান্দা এলকার বাসিন্দা মোঃ নাসির হাওলাদারের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমানকে।
পরে আটকৃতদের আদালতে হাজির করলে মিজানকে ০১ (এক) মাসের সশ্রম কারাদন্ড ও ০৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ০৫ (পাঁচ) দিনের কারাদন্ড প্রদান করে আদালত।
অপরদিকে, টাকা ও মোবাইল চুরি করার অপরাধে ফয়সালকে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ০৩ (তিন) হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ০৫ (পাঁচ) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে আদালত।
আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ রানা শেখ সামারী ট্রায়াল পরিচালনা করে তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক নিয়মিত এ সামারী ট্রায়ালের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ করে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনছেন। একই সাথে সামারী ট্রায়াল পরিচালনা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারিক কার্যক্রমকে গতিশীল করছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ। এতে করে বরগুনায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে সচেতন মহলের ভাবনা।
বাপ্পি/সা.এ
