বহুল আলোচিত গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন বিল পাস
বহুল আলোচিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে, বিল দুটির কয়েকটি বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। গুমের তদন্ত ও মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দল বলেছে, নতুন আইনে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে থাকা কিছু ক্ষমতা ও স্বাধীনতার পরিধি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনার পর কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয়। বিল পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্তের ক্ষমতা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইনে ক্ষমতা দিলেই হবে না, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক, প্রশাসনিক ও তদন্তগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কিছু ক্ষেত্রে ‘দ্বৈত প্রয়োগের’ সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত এবং জবাবদিহিতার কাঠামো কতটা স্বাধীন থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে যে ধরনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছিল, নতুন আইনের কিছু বিধানে তার পরিধি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুমের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দ্বৈততা থাকলে বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগের অধ্যাদেশের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও কার্যকর। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ সহজ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের অধ্যাদেশে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারের আদালতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব জটিলতা ছিল। নতুন আইনে তাদের সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে গুমের বিভিন্ন ধরনকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ বা জোরপূর্বক গুমের বিচার আগের মতোই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে থাকবে। গুমের অন্যান্য ধরনকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও আইনে রাখা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি না থাকলেও ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের দায়ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কমিশন স্বাধীনভাবে গুমের ঘটনা তদন্ত করতে পারবে। কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিনা নোটিশেও সংশ্লিষ্ট স্থানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ আদালতে গ্রহণযোগ্য করার বিষয়টিও বিলে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়নের আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের বাস্তবতা ও স্থানীয় সংস্কৃতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
