বাসের সুপারভাইজার-সহকারীর স্বীকারোক্তি, চালক ৪ দিনের রিমান্ডে
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার বাসের সুপারভাইজার ও সহকারী আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় বাসচালক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে এই আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও চালকের সহকারী মাহবুব আলম মনির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। তারা নিজেরাই ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মতি দেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর সাজুর এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ মনির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে মামলার তদন্তের স্বার্থে বাসচালক সোহেল রানাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে বাসে ওঠেন ইসমাইল হোসেন। গ্রামের জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা এবং কয়েক ধরনের খাদ্যসামগ্রীও তার সঙ্গে ছিল।
ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। ইসমাইলের মোবাইলে ফোন করলে সেটি বন্ধ পান তার ছেলে। সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষার পর তিনি বাসায় ফিরে যান।
পরে দুপুর ১২টার দিকে বনানী থানা থেকে ইসমাইলের এক প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়। এরপর মরদেহের ছবি দেখে ইসমাইলকে শনাক্ত করেন তার ছেলে হাসান।
পুলিশ জানায়, বনানী থানা এলাকার কাকলী থেকে কুড়িলগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থান থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নাক, মাথা ও ডান হাতের কবজি সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় বনানী থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসমাইলের সঙ্গে থাকা জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামালও পাওয়া যায়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমডিএএ/কেএসআর
