শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, চাই আর্থিক সাক্ষরতাও
এই মডেল দেশের অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও অনুসরণ করতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি শাখায় প্রতিবন্ধী-বান্ধব কাউন্টার, স্ক্রিন-রিডার সহায়ক মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ এবং বিশেষায়িত স্কুল-কেন্দ্রিক আর্থিক সাক্ষরতা কর্মশালা চালু করা প্রয়োজন।
বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী অধিকার সংগঠন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠ্যক্রম তৈরি করলে মৌলিক সাক্ষরতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই বাজেট, সঞ্চয় ও নিরাপদ লেনদেনের ধারণাও একই সঙ্গে শেখানো সম্ভব।
এভাবেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কেবল সাক্ষরই নন, বরং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।
সবশেষে বলা যায়, চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক, বাংলাদেশের অর্জনও কম নয়। চার দশক আগে যে দেশে দশজনের মধ্যে ছয়জনই ছিলেন নিরক্ষর, সেই দেশ আজ সাক্ষরতার হারে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যম সারিতে দাঁড়িয়েছে।
মোবাইল ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্ময়কর সম্প্রসারণ প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে পিছপা হয় না—প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা ও ধারাবাহিক বিনিয়োগ।
সাক্ষরতা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বর্ণ চেনা থেকে শুরু হওয়া যাত্রাটির প্রকৃত গন্তব্য হলো একজন মানুষের অর্থনৈতিক আত্মমর্যাদা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
সেই যাত্রা দীর্ঘ হলেও অসম্ভব নয়—বরং প্রতিটি নতুন উদ্যোগ, প্রতিটি ব্রেইল বই বা পাঠ্যক্রম সংস্কার আমাদের সেই আলোকিত ভবিষ্যতের কাছাকাছি নিয়ে যায়, যেখানে সাক্ষরতা ও সচ্ছলতা একসঙ্গে হাঁটবে।
-
এম এম মাহবুব হাসান, ব্যাংকার, উন্নয়ন গবেষক ও লেখক।
* মতামত লেখকের নিজস্ব।
