চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিমের বাড়িতে শোকের মাতম


চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের বাড়িতে মাতম চলছে। দুপুরের দিকে তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নিহত তাসনিম রিফায়াতের বাবার নাম আসাদুল হক। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিফায়াত ছিলেন মেজ।

প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তাসনিম রিফায়াত। তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তাসনিম রিফায়াতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বলেন, এর আগেও একই ট্যাংকে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিন রিফাত ওই ট্যাংকে ফায়ারিং করেছিলেন। পরদিন সেখানে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন। আগের ঘটনাটি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, “এসব ঘটনায় রিফাতের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করত। তিনি ভিডিওকলের মাধ্যমে কর্মস্থলের বিভিন্ন বিষয় পরিবারকে দেখাতেন এবং ঝুঁকির কথা বলতেন। এমনকি চাকরি নিয়েও তিনি ভীত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘আমার সঙ্গে এমন কিছু হলে হয়তো আমার অস্তিত্বও থাকবে না’। এ কারণে তিনি চাকরি করতে না চাওয়ার কথাও একাধিকবার জানিয়েছিলেন।”

ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এখন আর চাওয়ার কিছু নেই, ছেলের জন্য সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।’

এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

মনির হোসেন মাহিন/এসআর

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *