খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ


খাগড়াছড়ির দীঘিনালাসহ জেলা সদর ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০০ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই রাস্তাঘাট ও নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়ায় তীব্র দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।

​শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি সদরের মুসলিম পাড়া, কালাডেবা, গঞ্জপাড়া, ফুটবিল, খবং পড়িয়া এবং দীঘিনালার কবাখালী, জামতলি, ছোট মেরুং এর কিছু অংশসহ বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে বাধ্য হয় স্থানীয়রা। তবে সকাল থেকে বৃষ্টি না থাকায় পরিস্থিতি উন্নতির পথে।

প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, চোখের পলকে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। ফলে অনেকেই আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরানোর সুযোগ পাননি। পানিতে ডুবে মারা গেছে বহু হাঁস-মুরগি ও গৃহপালিত পশু, আর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলি জমির।

​বন্যায় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। দীঘিনালা-সাজেক, দীঘিনালা-লংগদু সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জামতলী এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

​দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের বেলুন মেকার শুভতি চাকমা জানান, বৃষ্টি শুরু হওয়ার সময় থেকে টানা প্রায় ৬ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যরাতের পর থেকেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৩ মিলিমিটারে।

​খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, নিম্নাঞ্চলের বন্যার পানি প্রবেশের বিষয়টিতে আমরা খবর রাখছি। পরিস্থিতির অবনতি হলে পানিবন্দি মানুষের জন্য দ্রুত উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসনিকভাবে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।



কুশল/সাএ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *