অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী থাকছে, দাম কত?
দীর্ঘ অপেক্ষা আর জল্পনা কল্পনার অনসান ঘটিয়ে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে নাম উঠালো অ্যাপল। এটিি সংস্থার প্রথম ভাঁজ করা আইফোন। যার নাম রাখা হয়েছে আইফোন ডুও। বইয়ের মতো মাঝখান থেকে ভাঁজ করা যায় ফোনটি। খুললে সামনে চলে আসে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, আর ভাঁজ করা অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের স্ক্রিন। ফলে সাধারণ আইফোনের মতো ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এটিকে ছোট ট্যাবলেটের মতোও কাজে লাগানো যাবে।
বড় ডিসপ্লে, ভাঁজে নতুন অভিজ্ঞতা
আইফোন ডুও-র ভেতরের স্ক্রিনটি ৭.৬ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওএলইডি ডিসপ্লে। অ্যাপলের দাবি, এটি আইফোনে এখন পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। ফোনটি খুললে এর পুরুত্বও খুব কম। স্ক্রিনে রয়েছে বিশেষ ন্যানো-টেকচার ফিনিশ, যা আলো প্রতিফলন কমাতে সাহায্য করবে।
বাইরের দিকে রয়েছে ৫.৪ ইঞ্চির ডিসপ্লে। দুই স্ক্রিনের আকৃতির অনুপাত একই রাখা হয়েছে। ফলে ফোন বন্ধ অবস্থায় দেখা কনটেন্ট খুললে হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বদলে যাবে না। বড় স্ক্রিনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো, ভিডিও দেখা কিংবা গেম খেলার সুবিধাও মিলবে।
ফোনের ভাঁজের জায়গায় ভাঁজ যাতে খুব বেশি চোখে না পড়ে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে অ্যাপল। রয়েছে নতুন সূক্ষ্ম কব্জা এবং উন্নতভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে প্রযুক্তি। পারফরম্যান্সের জন্য আইফোন ডুও-তে ব্যবহার করা হয়েছে এ২০ প্রো চিপ। এটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি।
অ্যাপল জানিয়েছে, এ২০ প্রো-এর ৬-কোর সিপিইউ আগের এ১৯ প্রো-এর তুলনায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুত। ৭-কোর সিপিইউ-র পারফরম্যান্স ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। চিপটির সঙ্গে রয়েছে নতুন তাপ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং কাস্টম বাষ্প চেম্বার। এর ফলে দীর্ঘ সময় গেম খেলা, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো কিংবা এআই -ভিত্তিক কাজের সময় ফোনের পারফরম্যান্স ধরে রাখার চেষ্টা করবে এই ব্যবস্থা।
৪৮এমপি ডুয়াল ক্যামেরা
ক্যামেরার ক্ষেত্রেও আইফোন ডুও বেশ আলাদা। পেছনে থাকছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম। এতে ৪৮এমপি ফিউশন মেইন এবং ৪৮এমপি ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। ০.৫x, ১x এবং ২x পর্যন্ত অপটিক্যাল-মানের জুম পাওয়া যাবে।
সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য রয়েছে ১২এমপি সেন্টার স্টেজের সামনের ক্যামেরা। পাশাপাশি ভেতরের ডিসপ্লের নিচে রাখা হয়েছে একটি ডিসপ্লের নিচে ফেসটাইম ক্যামেরা, যা ১০৮০পি ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। ফোল্ডেবল ডিজাইনের সুবিধা নিয়ে ক্যামেরায় কয়েকটি নতুন ফিচারও যোগ করেছে অ্যাপল। যেমন- স্মার্ট টেক, যার সাহায্যে ফোন হাতে না রেখেও ছবি তোলা যাবে। আর ডুও প্রিভিউ-এর মাধ্যমে ফোনের বাইরের স্ক্রিনে ক্যামেরায় কী দেখা যাচ্ছে, তা প্রিভিউ করা যাবে।
আইফোন ডুও-তে রয়েছে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স এবং নতুন সিরি এআই। ছবি সম্পাদনা, তথ্য খোঁজা এবং বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার করা যাবে। অ্যাপল জানিয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এআই-এর অনেক প্রসেসিং ডিভাইসেই করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রাইভেট ক্লাউড কম্পিউট ব্যবহার করা হবে।
ফোনটিতে রয়েছে দ্বৈত-ব্যাটারি স্থাপত্য। অ্যাপলের দাবি, সাধারণ ব্যবহারে এক চার্জে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। বড় স্ক্রিন ও শক্তিশালী চিপের কারণে যাতে অতিরিক্ত তাপ তৈরি না হয়, তার জন্য বিশেষ তাপ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম-ও রাখা হয়েছে।
চারটি স্টোরেজ অপশন, দুই রঙে পাওয়া যাবে ফোল্ডেবল আইফোনটি
আইফোন ডুও-এর বেস মডেলে থাকছে ২৫৬জিবি স্টোরেজ। এরপর ৫১২জিবি, ১টিবি এবং সর্বোচ্চ ২টিবি স্টোরেজের বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফোনটির দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। ২৫৬জিবি মডেলের এই দামই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনকে সংস্থার সবচেয়ে দামি আইফোনগুলোর একটি করে তুলেছে।
স্টার হোয়াইট এবং নাইট স্কাই- এই দুই রঙে ভারতীয় বাজারে বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী দাম শুরু প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ রুপি থেকে এবং ২টিবি মডেলের দাম প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক মূল্য এখনও আলাদা করে ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএসকে


