বন্ধ হলো শাপলা টকিজ, সিনেমা হলশূন্য রংপুর
রংপুর শহরে একসময় বেশ কয়েকটি সিনেমা হল থাকলেও দর্শক সংকট, ব্যবসায়িক মন্দা ও বিনোদন মাধ্যমের পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে সবগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
সর্বশেষ টিকে থাকা শাপলা টকিজও শুক্রবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান সুমন।
তিনি বলেন, ‘‘হলটি ভাড়ায় পরিচালনা করা হচ্ছিল। কিন্তু ভাড়াটিয়া চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।’’
সাইদুর রহমান সুমন বলেন, “এতে আমাদের পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। হলটির প্রতিষ্ঠাতা আমার চাচা মরহুম মাসুম মিয়া ছিলেন অত্যন্ত স্বনামধন্য ব্যক্তি। তার প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলবে, তা মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। রংপুর চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই হলটি বন্ধ করা হয়েছে।”
হলের সামনে দোকান পরিচালনাকারী শ্যামল কুমার রায় জানান, কেন হলটি বন্ধ করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে শুক্রবার হল থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে দেখেছেন।
রংপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠক জহির আলম নয়ন বলেন, “শাপলা টকিজ বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে রংপুর এখন বাণিজ্যিক সিনেমা হলশূন্য শহরে পরিণত হলো।”
তিনি বলেন, “মানুষ এখনও হলে গিয়ে ভালো সিনেমা দেখতে চায়। প্রেক্ষাগৃহের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
পাকিস্তান আমলে রংপুর শহরে শাপলা টকিজ, দরদী হল, ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, নূর মহল ও চায়না টকিজসহ প্রায় ১০টি সিনেমা হল ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক কমে যাওয়া ও ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে একে একে সব হল বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
