বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে শুরু হলেও এখন তা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরো গভীরভাবে যুক্ত হতে চায়। এ প্রেক্ষাপটে সিইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করবে।”
তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “অল্প সময়ে দেশটি যে উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।”
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বাংলাদেশকে তার “দ্বিতীয় শহর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার, শিল্পভিত্তি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”
বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় সিইপিএ আলোচনা প্রক্রিয়ায় দুই দেশের কর্মকর্তা, আলোচক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “প্রয়োজনীয় আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে শিগগিরই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে এবং বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
