শেকৃবির ‘স্মার্ট ড্রায়ার’, রোদ-বৃষ্টি ছাড়াই শুকাবে কৃষি ও মৎস পণ্য


রোদ-বৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত আর্দ্রতার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি ও মৎস্যপণ্য শুকানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। আইওটি নির্ভর ‘এসএইউ স্মার্ট ড্রায়ার’ নামের এ প্রযুক্তিতে মাছ-শুঁটকির পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকিয়ে তৈরি করা যাবে নানা ধরনের মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্য।

বাংলাদেশের কোনো এক উপকূলীয় এলাকায় শুঁটকি উৎপাদনের মৌসুম। খোলা জায়গায় সারি সারি মাছ শুকাতে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামল। কয়েক ঘণ্টার পরিশ্রম মুহূর্তেই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল। আবার কোথাও প্রচণ্ড রোদ থাকলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মাছ শুকাতে সময় লাগছে। ধুলাবালি, মাছি-পোকামাকড় কিংবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে কমে যাচ্ছে পণ্যের মান।

কৃষি ও মৎস্যপণ্য শুকানোর প্রচলিত ব্যবস্থার এমন বাস্তবতাই এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে শেকৃবি।বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ উদ্ভাবিত ‘এসএইউ স্মার্ট ড্রায়ার’-এর গবেষণা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা।

শুধু মাছ ও শুঁটকি নয়—আম, কাঁঠাল, কলা, বিটরুট, রোজেলা, আনারস, মরিচ, করলা, ধনিয়াপাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকিয়ে পাউডার, চা, জার্কি, শুকনো স্লাইসসহ নানা ধরনের মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্য তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে এ প্রযুক্তি।

রোদ না থাকলেও চলবে শুকানো

বাংলাদেশে কৃষিপণ্য ও মাছ শুকানোর সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো সূর্যের তাপ ব্যবহার করা। পণ্য খোলা জায়গায় চাটাই, মাচা বা অনুরূপ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে দিয়ে রোদ ও বাতাসের সাহায্যে শুকানো হয়। পদ্ধতিটি সহজ এবং তুলনামূলক কম খরচের হলেও এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা—এটি আবহাওয়ানির্ভর।

২৪ ঘণ্টায় শুকাবে কৃষিপণ্য

দিনে কার্যকরভাবে কয়েক ঘণ্টা রোদ পাওয়া গেলেও সন্ধ্যার পর শুকানোর প্রক্রিয়া থেমে যায়। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত আর্দ্রতায় সময় আরো বেড়ে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য শুকাতে গিয়ে পচন ও মানহ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হয়। স্মার্ট ড্রায়ারের এই প্রকল্পটি এই সীমাবদ্ধতাকেই মূলত মোকাবিলা করতে চায়।

ড্রায়ারটিতে রয়েছে সৌরশক্তি, ব্যাটারি, ইনফ্রারেড হিটার, সেন্সর, ফ্যান এবং আইওটি প্রযুক্তির সমন্বয়। দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি অতিরিক্ত শক্তি ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা যায়। রাতে সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে ইনফ্রারেড হিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তাপ দেওয়া সম্ভব।

ফলে সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও শুকানোর কাজ চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে শুকানোর সময় নির্ভর করে প্রকৃতির ওপর, সেখানে স্মার্ট ড্রায়ার শুকানোর প্রক্রিয়াকে নিয়ে আসে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের মধ্যে।

শুধু তাপ নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ

কোনো পণ্য দ্রুত শুকাতে শুধু তাপ দিলেই হয় না। পণ্য থেকে বের হওয়া আর্দ্রতা দ্রুত অপসারণ এবং ড্রায়ারের ভেতরে তাপের সুষম বণ্টনও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এই স্মার্ট ড্রায়ারে রয়েছে চারটি এক্সজস্ট ফ্যান। এগুলো পণ্য থেকে বের হওয়া আর্দ্রতা বাইরে বের করে ড্রায়ারের ভেতরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, রয়েছে আটটি রোটেটিং ফ্যান, যা ড্রায়ারের ভেতরের তাপ সমভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে বিভিন্ন র‌্যাকে থাকা পণ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে সমান শুকানোর পরিবেশ তৈরি হয়। ড্রায়ারটি উচ্চ সহনশীল পলিথিন দিয়ে ঘেরা। এতে মাছি, পোকামাকড় ও বাইরের ধুলাবালির প্রবেশের সুযোগ কমে আসে। ফলে প্রচলিতভাবে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজনও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ।

মোবাইল ফোনেই নজরদারি

প্রযুক্তিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর আইওটি ও সেন্সরভিত্তিক স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেম। ড্রায়ারের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত পরামিতি সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। একইসঙ্গে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ড্রায়ারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।

এর ফলে উদ্যোক্তাকে সব সময় ড্রায়ারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। দূর থেকেই ড্রায়ারের ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এতে শুকানোর প্রক্রিয়া শুধু যান্ত্রিক নয়, বরং তথ্যনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে।

কম সময়ে বেশি উৎপাদনের সুযোগ

উদ্ভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে দিনে প্রায় ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা কার্যকরভাবে মাছ শুকানো সম্ভব হলেও স্মার্ট ড্রায়ারে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শুকানোর সুযোগ রয়েছে। এর ফলে শুকানোর সময় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সময় কমলে একই সময়ে বেশি পরিমাণ পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হতে পারে। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তার মুনাফার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় ও মৎস্যপ্রধান এলাকাগুলোতে এর গুরুত্ব আরো বেশি হতে পারে। এসব অঞ্চলে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুঁটকি উৎপাদনের নিয়মিত চ্যালেঞ্জ। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শুকানোর সুযোগ তাই এসব এলাকার উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

আইওটি-নির্ভর ড্রায়ার

শুঁটকির গণ্ডি পেরিয়ে শতাধিক পণ্য

এই স্মার্ট ড্রায়ারের সম্ভাবনা শুধু মাছ বা শুঁটকি উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিপণ্য শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য পণ্যে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমের পাউডার, বিটরুট পাউডার, রোজেলা চা, লেমন চা, কাঁঠালের পাউডার, বিফ জার্কি, ফিশ জার্কি, শুকনো আনারস, কলার পাউডার, করলার পাউডার, কাঁচা মরিচের পাউডার ও ধনিয়াপাতার পাউডারসহ শতাধিক মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এখানেই প্রযুক্তিটির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি।

ধরা যাক, মৌসুমে কোনো এলাকায় বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হলো। একই সময়ে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়ে গেল। সব আম বিক্রি করা সম্ভব হলো না। তখন কাঁচা আম নষ্ট হওয়ার পরিবর্তে তা শুকিয়ে পাউডার বা অন্য কোনো মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তর করা যেতে পারে।

একইভাবে কাঁঠাল, কলা, আনারস, মরিচ কিংবা বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে নতুন পণ্য। অর্থাৎ, কৃষকের জন্য বাজারের শেষ প্রান্তে গিয়ে কাঁচা পণ্য বিক্রি করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েই পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে নতুন বাজার তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা

কৃষি ও মৎস্যপণ্যের পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। উৎপাদনের পর সঠিক সময়ে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়। উদ্ভাবকের মতে, প্রযুক্তিটির কার্যকর ব্যবহার কৃষি ও মৎস্যপণ্যের পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মৌসুমে কোনো পণ্যের উৎপাদন বেড়ে গেলে বাজারে একসঙ্গে সরবরাহ বাড়ে। এতে দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি অবিক্রীত পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। কিন্তু সেই পণ্য শুকিয়ে সংরক্ষণ করা গেলে কৃষক ও উদ্যোক্তার হাতে পণ্য ধরে রাখার সুযোগ বাড়ে। পরে বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে।

এতে একদিকে খাদ্য অপচয় কমতে পারে, অন্যদিকে কৃষকের আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠতে পারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। তৈরি হতে পারে নারী ও যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

গবেষণাগার থেকে মাঠপর্যায়ে

এটা এখন আর শুধু গবেষণাগারের ধারণা নয়। প্রযুক্তিটি মাঠপর্যায়ে স্থাপন ও পরীক্ষার পর্যায়েও গেছে। নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ও মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রযুক্তিটি স্থাপন ও পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া, কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও প্রযুক্তিটি স্থাপন করেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত শুঁটকি প্রচলিত শুঁটকির তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এবং রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। মাঠপর্যায়ের এমন অভিজ্ঞতা প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরো বাস্তব করে তুলছে।

ড্রায়ার থেকে স্থানীয় ব্র্যান্ড

উদ্ভাবক ড. মো. মাসুদ রানার ভাবনায় এ প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বড় পরিসরে। তার ধারণা, SAU Smart Dryer শুধু একটি শুকানোর যন্ত্র নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।

কোনো এলাকার আম, কাঁঠাল, কলা, মরিচ, শাকসবজি বা মাছকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং করা গেলে সেই এলাকার নিজস্ব পণ্যকে জাতীয় এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তখন কৃষকের ভূমিকা শুধু কাঁচা পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই এলাকার কৃষিপণ্য স্থানীয়ভাবেই প্রক্রিয়াজাত হয়ে তৈরি করতে পারে নতুন পণ্য, নতুন ব্যবসা এবং নতুন বাজার। একটি গ্রাম বা একটি অঞ্চল তখন শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য নয়, বরং সেই পণ্য থেকে তৈরি মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্যের জন্যও পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।

সম্ভাবনার সঙ্গে রয়েছে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

তবে, নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপ দিতে শুধু উদ্ভাবন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ, ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ। এই স্মার্ট ড্রায়ারের ক্ষেত্রেও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কোন অঞ্চলে কোন পণ্য শুকানো হবে, উদ্যোক্তার জন্য প্রযুক্তিটির ব্যবহার কতটা সহজ ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হবে, উৎপাদিত পণ্যের মান ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ কীভাবে করা হবে—এসব প্রশ্নের বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।

প্রযুক্তিটির ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে কৃষক, মৎস্যজীবী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কাঁচা পণ্য থেকে নতুন অর্থনীতির পথে

বাংলাদেশের কৃষি খাত এখন শুধু উৎপাদন বাড়ানোর পর্যায়ে নেই। উৎপাদিত পণ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, কীভাবে অপচয় কমানো হবে এবং কীভাবে কাঁচা পণ্যে মূল্য সংযোজন করে কৃষক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ানো যাবে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় শেকৃবির এই স্মার্ট ড্রায়ার একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। সৌরশক্তি, ব্যাটারি, ইনফ্রারেড হিটার, সেন্সর, ফ্যান ও আইওটি প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এ ব্যবস্থা একদিকে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শুকানোর সুযোগ তৈরি করছে। অন্যদিকে, কাঁচা কৃষি ও মৎস্যপণ্যকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের পথ খুলে দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, শেকৃবির এই স্মার্ট ড্রায়ারকে শুধু একটি আধুনিক শুকানোর যন্ত্র হিসেবে দেখলে এর সম্ভাবনার বড় অংশই অদেখা থেকে যায়। এটি হতে পারে পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমানোর একটি প্রযুক্তি, নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদনের একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা এবং একইসঙ্গে, গ্রামীণ পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের একটি অবকাঠামো।

তবে, এ উদ্ভাবনের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে প্রযুক্তিটি কতটা সহজে কৃষক, মৎস্যজীবী ও উদ্যোক্তার কাছে পৌঁছায় এবং উৎপাদিত পণ্যের জন্য কতটা কার্যকর বাজার তৈরি করা যায় তার ওপর। যথাযথ প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, সম্প্রসারণ ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে শেকৃবির এ উদ্ভাবন হয়তো শুধু রোদ-বৃষ্টির অনিশ্চয়তা থেকে কৃষিপণ্যকে মুক্ত করবে না—বরং কাঁচা কৃষিপণ্য উৎপাদনের অর্থনীতিকে নিয়ে যেতে পারে মূল্য সংযোজন, স্থানীয় ব্র্যান্ড ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির এক নতুন যুগে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *