বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ পেছালো, পরবর্তী তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নির্ধারিত দিনে কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানান, এদিন মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে কোনো সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৬ জুলাই এ মামলায় বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবির সাক্ষ্য দেন। মামলাটিতে ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩ মে তার অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করার আদেশ দেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।
তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত অনুযায়ী, তার বৈধ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে নিট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এসব অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনি কারবারে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমডিএএ/এমএমকে
