‘ফেস অব টুমরো’ প্রতযোগিতা থেকে পর্দায় আসছে ২০ নতুন মুখ, চ্যাম্পিয়ন রাইসা-লাবণ ,
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গত ১০ আগস্ট জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী খোঁজার উদ্যোগ ‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’-এর প্রথম আসর। আয়োজনের শেষ পর্ব ‘গ্র্যান্ড সিনেম্যাটিক গালা’-তে ঘোষণা করা হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৫,৪৭১ জনেরও বেশি প্রতিযোগীর মধ্য থেকে কয়েক ধাপের অডিশন, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ ও সিনেম্যাটিক বুটক্যাম্প শেষে নির্বাচিত হন সেরা ২০ প্রতিযোগী।
চূড়ান্ত পর্বে বিচারকদের মূল্যায়নে রাইসা সুলতানা ও এম এইচ এস লাবণ চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হন। চ্যাম্পিয়ন জুটি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা পুরস্কার। প্রথম রানার্সআপ সিফনা ও শৌমিক পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ মুনমুন ও তমাল পেয়েছেন ১ লাখ টাকা।
পুরো আয়োজনের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দেশের চলচ্চিত্র ও অভিনয় অঙ্গনের তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব—নির্মাতা অনিমেষ আইচ, অভিনেত্রী রিতা ফারিয়া রিচি সোলায়মান এবং অভিনেত্রী নাজনীন হাসান চুমকি।
প্রতিযোগীদের অভিনয়, উপস্থিতি, পারফরম্যান্স, চরিত্র ধারণের সক্ষমতা ও সামগ্রিক সম্ভাবনা মূল্যায়নে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা।
তবে ‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নির্বাচিত সেরা ২০ প্রতিযোগীকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মঞ্চ পেরিয়ে এবার বাস্তব চলচ্চিত্রের সেটে নিজেদের অভিনয় ও সৃজনশীলতার প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।
‘চলো ঘুরে আসি’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য এই ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে থাকছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল, মানুষ, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও জীবনযাপনের গল্প। প্রতিটি গল্পের জন্য থাকছে আলাদা নির্মাতা, আলাদা চরিত্র এবং আলাদা নির্মাণভাষা।
ইতোমধ্যে ‘দূরের মানুষ’, ‘দেবী’, ‘মায়ানীড়’সহ বিভিন্ন গল্প ও চরিত্রে শিল্পী নির্বাচন করা হয়েছে। এসব চলচ্চিত্রে ‘ফেস অব টুমরো’-এর নির্বাচিত প্রতিযোগীদের পাশাপাশি নির্মাতা ও অন্যান্য পেশাদার শিল্পীরাও যুক্ত হচ্ছেন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি জানিয়েছে, ‘ফেস অব টুমরো’কে তারা কেবল একটি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছে না; বরং নতুন শিল্পীদের দীর্ঘমেয়াদি শিল্পী উন্নয়নের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। প্রশিক্ষণ, বাস্তব কাজের সুযোগ এবং পেশাদার প্রযোজনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকদের দর্শন—“We Don’t Just Discover Artists, We Develop Them.” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রির।
‘ফেস অব টুমরো ২০২৬’-এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার পর্ব শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত যাত্রা এখনই শুরু। ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এবার পর্দায় নিজেদের গল্প, অভিনয় ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন তাঁরা।
ফেস অব টুমরো ২০২৬—প্রতিযোগিতার শেষ নয়, বরং নতুন এক যাত্রার শুরু।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
