মিয়ানমারের বিবৃতির সাথে একমত নয়, রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে জানাল ঢাকা
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাঙালি, শনিবার মিয়ানমারের দেওয়া এমন বিবৃতির সাথে ঢাকা একমত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যর্পণে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে বিবৃতির ব্যাখ্যা চেয়ে দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ডেকে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুপুরে রাষ্ট্রদূতের সাথে ডিজি (মিয়ানমার) বৈঠক হয়।
এরপর বিকেল পৌনে ৬টায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের কাছে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জানতে চান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই সেটার সাথে আমরা একমত নই। তাদের নিজেদের একটা আইডেনটিটি আছে, সেই আইডেনটিটি নিয়েই তারা ফেরত যাবে। একটা ভালো পরিবেশে ডিজির সাথে অ্যাম্বাসেডরের আলোচনা হয়েছে। উনি আশ্বস্ত করেছেন যে উনি সরকারের সাথে কথা বলে এই কাজগুলো দ্রুত করবেন।”
বাংলাদেশ মানবতা ও মানবাধিকার বিবেচনায় ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
“মিয়ানমার সরকারের সাথে আমাদের যেই যোগাযোগটা আছে, মিয়ানমার সরকারের সাথে আমাদের এক্সচেঞ্জ হচ্ছে, কমিউনিকেশন হচ্ছে কারণ আমরা এই রিপ্যাট্রিয়েশনটা শুরু করতে চাই। শুধু সার্জিও গোর না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন চীন সফর করেছিলেন তখন চীন সরকারও আমাদেরকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেছিল যে তারাও মিয়ানমারের সাথে যথেষ্ঠ পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করবে,” বলেন প্রতিমন্ত্রী।
শনিবার মিয়ানমারের দেওয়া বিবৃতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যার্পণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক চাপ নয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সমাধান হতে হবে, এমন বক্তব্যে ঢাকা কেন প্রতিবাদ করেনি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সবকিছু ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদ করলে সমাধান আসবে বিষয়টা এমন নয়।
“অবশ্যই একটা আন্তর্জাতিক চাপ যে প্রয়োগ করতে হবে মিয়ানমার সরকারের ওপর, আরাকান আর্মির ওপরে সেটা কিন্তু পরিষ্কারভাবে আমরা সব সময় বলছি এবং আলোচনার ক্ষেত্রে সেটা উঠে আসছে। আমরা মিয়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই, আমরা আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে আরো বেশি জোর দিচ্ছি তারাও যেন মিয়ানমারের ওপরে সেই প্রেশারটা ক্রিয়েট করে,” বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
