আরও কমল এলএনজি সরবরাহ
এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে মজুদ কমে যাওয়ায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ মঙ্গলবার আরও কমেছে।
তবে ২০ ও ২৩ আগস্ট দুটি নতুন কার্গো আসার কথা জানিয়েছেন এলএনজি টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট)সন্ধ্যা ৬টায় দুই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের হার ছিল ৬৩ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।
সোমবার(১৭ আগস্ট) রাত ৮টায় সরবরাহ হয়েছিল ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সেই হিসাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলএনজি সরবরাহ ৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল।
পেট্রোবাংলার দৈনিক উৎপাদন বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় ক্ষেত্রগুলো থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উৎপাদন হয়েছে ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট।
সোমবার(১৭ আগস্ট) রাতে তা ছিল প্রায় ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও এলএনজি কমে যাওয়ায় মোট সরবরাহ কমেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৫ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। সোমবার রাতে তা ছিল প্রায় ২২৮ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।
দুই সময়ের হিসাবে মোট সরবরাহ ২ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সেই হিসাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাহিদার প্রায় ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ সরবরাহ করা গেছে। ঘাটতি ছিল ১৫৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুটের মতো।
দুই ভাসমান টার্মিনালের সম্মিলিত সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট। মঙ্গলবারের এলএনজি সরবরাহ ছিল সেই সক্ষমতার ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
পেট্রোবাংলার ১৭ থেকে ১৮ অগাস্টের ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে দেশীয় উৎপাদন দেখানো হয় ১৬৩ কোটি ৮৩ লাখ ঘনফুট। এলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল ৬২ কোটি ৪৬ লাখ ঘনফুট। মোট সরবরাহ ছিল ২২৬ কোটি ২৮ লাখ ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার ১৫ থেকে ১৬ অগাস্টের প্রতিবেদনে এলএনজি সরবরাহ ছিল ৮০ কোটি ৩৮ লাখ ঘনফুট। এর তুলনায় ১৭-১৮ অগাস্টের প্রতিবেদনে সরবরাহ ১৭ কোটি ৯২ লাখ ঘনফুট বা ২২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
এক্সিলারেটে মজুদ কম, সামিট স্বাভাবিক
দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল কক্সবাজারের মহেশখালীতে। একটি এক্সিলারেট এনার্জির। অন্যটির মালিক সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। দুটি টার্মিনালই পরিচালনা করে এক্সিলারেট এনার্জি।
এলএনজি টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, দুই টার্মিনালের একটি থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি এবং অন্যটি থেকে প্রায় প্রায় ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসছিল। তার হিসাবে মোট সরবরাহ ছিল প্রায় প্রায় ৬৪ কোটি ঘনফুট।
তিনি বলেন, এক্সিলারেটের টার্মিনালে এলএনজির মজুদ কিছুটা কমে গেছে। এ কারণে সেখান থেকে সরবরাহ কমেছে। সামিটের টার্মিনাল স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন কার্গো থেকে এলএনজি খালাস হলে সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা করছেন।
ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, একটি কার্গো ২০ অগাস্ট এবং আরেকটি ২৩ অগাস্ট আসার কথা। প্রথম কার্গো আসার আগের সময়টিতে গ্যাসের বড় ধরনের ঘাটতি হবে না বলেও আশা করছেন তিনি।
গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। এর মধ্যে ১৩ অগাস্ট বন্ধ হয় সামিটের টার্মিনাল। এলএনজিবাহী জাহাজ ভিড়তে না পারায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরদিন সামিট আবার সরবরাহ শুরু করে। একই দিনে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হলেও রাতে সেখান থেকে আবার সরবরাহ শুরু হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বড় ঘাটতি
পেট্রোবাংলার ১৭ থেকে ১৮ অগাস্টের প্রতিবেদনে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা দেখানো হয়েছে ২৫২ কোটি ৪৯ লাখ ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৯৪ কোটি ৫১ লাখ ঘনফুট। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চাহিদার ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ গ্যাস পেয়েছে। ঘাটতি ছিল ১৫৭ কোটি ৯৮ লাখ ঘনফুট।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ১৭ অগাস্টের প্রতিবেদনে ২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ইউনিটে সরাসরি গ্যাস সংকটের কথা বলা হয়েছে। আরও দুটিতে গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সমস্যার তথ্য রয়েছে। গ্যাস-সংক্রান্ত সমস্যায় থাকা ২৫টি কেন্দ্র বা ইউনিটের মধ্যে ১৩টি থেকে সোমবার সারা দিনে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। এগুলোর বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার ৩৮০ দশমিক ২২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় দেশের কেন্দ্রগুলোর মোট স্থাপিত সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। কেন্দ্রগুলোর বর্তমান বাস্তব সক্ষমতা ছিল ২৮ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট।
এর বিপরীতে সোমবার সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ৮৯১ দশমিক ৪৭ মেগাওয়াট। এটি স্থাপিত সক্ষমতার ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
তবে সক্ষমতা ও উৎপাদনের এই ব্যবধান শুধু জ্বালানি সংকটের কারণে নয়। কয়েকটি কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি ও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণেও উৎপাদনে ছিল না।
প্রতিবেদনে আরও ২৮টি কেন্দ্র বা ইউনিটে তরল জ্বালানির সংকট দেখানো হয়েছে। কয়লার সংকট ছিল দুটি কেন্দ্র বা ইউনিটে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি
