শেরপুরে গারো সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিচার দাবি
শেরপুরে গারো সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
এসময় বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১২ আগস্ট গারো মালিকানাধীন জমির পাশের একটি খালের কাছ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার সূত্রপাত হয়। পরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দুই শতাধিক ব্যক্তি ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো অধ্যুষিত পূর্ব গজারীকুড়া এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার বান্ধাধারা এলাকায় হামলা চালায়।
তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর, বাসিন্দাদের মারধর ও নারীদের শ্লীলতাহানি করে। এসময় অন্তত ১৯টি গারো পরিবারের গবাদিপশু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাদ্যশস্য ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী লুট করা হয়।
মানববন্ধনে হামলার শিকার নীলু চাম্বুগং ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে আমাদের সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ১৯৭১ সালের ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো নির্যাতন ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এমনকি আমাদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে স্থানীয় গারো বাসিন্দারা হুমকি ও ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক জাকির হোসেন বলেন, ‘সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের বিভ্রান্তিকর নীতি এবং জাতীয় আদমশুমারিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা কম দেখানোর প্রবণতা এ ধরনের স্থানীয় সহিংসতাকে উসকে দেয়।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিনিধি নূরুন্নাহার উল্লেখ করেন, গণপিটুনি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একজন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পুরো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সমতলের আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক উজ্জ্বল আজিম। তিনি দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
এসময় গারো সম্প্রদায়ের ওপর হামলার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গারো পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত, পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক নিরপরাধ আদিবাসীদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তোলা হয়।
মানববন্ধনে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাসদ (মার্কসবাদী), আদিবাসী শিক্ষার্থী অ্যাকশন কাউন্সিল, হিল উইমেন্স ফেডারেশন এবং সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
আরটি/একিউএফ
