অনিরাপদ ড্রামে ভোজ্যতেল, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরে ক্যাবের উদ্যোগ


ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং অনিরাপদ উপায়ে ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কারণে জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর পৌরসভার সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করা হয়।

ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক সচিব এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

সভায় ফরিদপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল্লাহ্ আল মাতিন, সরকারি ইয়াসিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস এবং ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।

এছাড়া সভায় ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাই জকি, দৈনিক প্র থম আ লোর নিজস্ব প্রতিবেদক প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, চিকিৎসক, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ভোজ্যতেল পরিবহন ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপদ পাত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার একদিনে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে এবং তুলনামূলক কম বয়সেও অনেক মানুষ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা বলেন, শুধু খোলা ভোজ্যতেল নয়, দীর্ঘদিন ব্যবহার করা পোড়া তেলে তৈরি পুরি, সিঙাড়াসহ বিভিন্ন খাবারও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। খাদ্যে ভেজাল ও অনিরাপদ উপকরণের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসাধু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তারা।

সভায় মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসক, আইনজীবী, বিএসটিআই কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষণে অনিরাপদ ড্রামের ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান বাস্তবতা, প্রতিবন্ধকতা এবং করণীয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, ব্যবসায়ীদের সচেতন করা, নিরাপদ পাত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খাঁন, সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান দুলাল ও এস এম মনিরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ রবিউল হাসান রাজীব, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ক্যাব নগরকান্দা উপজেলা শাখার সভাপতি এহসানুল হক, ক্যাব সালথা উপজেলা শাখার সভাপতি আরিফুল ইসলামসহ ক্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।



কুশল/সাএ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *