ফিলিস্তিনের পক্ষে ৩ বছর একাই দাঁড়িয়ে জাপানি নাগরিক
চারপাশে মানুষের ব্যস্ত ছুটে চলা। কেউ কাজে যাচ্ছেন, কেউ ছুটছেন অন্য কোনো গন্তব্যে। তাদের ভিড়ের মধ্যেই গলায় কুফিয়াহ আর হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে আছেন একজন। কেউ থামছেন, কেউ বা ছবি তুলছেন, আবার বেশিরভাগ মানুষই তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন। তবু থামেননি ৪৯ বছর বয়সী জাপানি কাঠমিস্ত্রি ও অভিনেতা ইউসুকে ফুরুসাওয়া।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকেই টোকিওর রাস্তায় একাই গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন তিনি।
শিনজুকু ও শিবুয়াসহ টোকিওর ব্যস্ত নগরকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত প্রতিবাদ করেন ফুরুসাওয়া। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তিনি স্লোগান দেন, ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’, ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘এখনই যুদ্ধবিরতি চাই’।
ফুরুসাওয়া জানিয়েছেন, প্রতিদিন তার চারপাশ দিয়ে হাজারও মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু, তাদের বেশিরভাগই উপেক্ষা করে চলে যান। কেউ কেউ এমনভাবে হাঁটেন, যেন সেখানে কেউ দাঁড়িয়েই নেই।
তবে, সবার প্রতিক্রিয়া এক নয়। বিদেশি পর্যটকদের অনেকে তার প্রতিবাদ দেখে থামেন। কেউ কেউ আবার তার সঙ্গে সংহতিও জানান। আবার কেউ মোবাইল ফোনে তার প্রতিবাদের ভিডিও ধারণ করেন। তবে, স্থানীয় জাপানিদের মধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন ফুরুসাওয়া।
তার স্পষ্ট বার্তা, মানুষকে রক্ষা করতে হবে, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে এবং মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে।
টোকিওর ফুটপাতে একা দাঁড়িয়ে তার এই প্রতিবাদ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। তার প্রতিবাদের ভিডিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। ফলে, রাস্তায় অনেকেই তাকে উপেক্ষা করলেও অনলাইনে তার বার্তা বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
জাপানি সমাজে সামাজিকভাবে অনুগত থাকার প্রবণতা এবং সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনীহা অন্যদের নীরব থাকার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ফুরুসাওয়া। তবে, মানুষের এই উদাসীনতা তাকে প্রতিবাদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি। কেউ কেউ তার এ অবস্থানকে ‘অবাস্তব আদর্শ’ বললেও তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমআরএইস/
