সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি কেনার বদলে ক্যানসারে আক্রান্ত সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় ৪০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিল একদল শিক্ষার্থী। তাদের সেই মানবিক উদ্যোগ এবার নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অসুস্থ ওই নারীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার কথা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম।
ইউএনও জানান, চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নাঈম শিকদারের মা লাইলী বেগম ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মাধ্যমে নাঈমের পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।
নাঈম শিকদার জানান, ইউএনও ফোন করে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর মা বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন—এ কথা শুনে তিনি খুবই আনন্দিত। নাঈমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে তাঁর বাবা আবদুল শিকদার ধারদেনা করে কাতারে যান। সেখানে এখনো কোনো কাজ পাননি। এর মধ্যেই নাঈমের মায়ের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ায় পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে মায়ের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর পায় নাঈম। চিকিৎসায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে তা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠীরা সিদ্ধান্ত নেয়, পরীক্ষায় পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে সেই টাকা বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় দেওয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট নাঈমের দাদা আবদুস সাত্তার সিকদারের হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেয় তার সহপাঠীরা। পরে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরাও এই মানবিক উদ্যোগে যুক্ত হন।
সেদিন শিক্ষার্থী ইমরান, জাহিদ ও আপন বলেছিল, পাসের আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে অসুস্থ সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তারা বেশি আনন্দিত। কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগে তিনি আপ্লুত। তাদের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নজরে গিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় নাঈমের পরিবার ও বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত। সহপাঠীদের ৪০ হাজার টাকার সহায়তার পর এবার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস—নাঈমের পরিবারের জন্য এটি যেন নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।
কুশল/সাএ
