ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প একটি টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী


মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ নারীরা পরিবারের পুষ্টিকর খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের কাজে ব্যবহার করতে পারছেন। এর ফলে পরিবারে নারীর ভূমিকা যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি সামাজিক নিরাপত্তাও বাড়ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে নারী ও শিশুর উন্নয়ন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, নারী শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ, কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় এবং ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জাপান ও জাইকাকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাইকার অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে জাইকার কারিগরি সহায়তা কামনা করেন তিনি। জাইকার প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানায়।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ পরিচর্যাকারীর চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি করতে চায়। তাদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প জাপানের বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরির বিষয়েও জাইকার সহযোগিতা চান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো বাংলাদেশে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি জানান, নারী ও শিশুদের কল্যাণের পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রান্তিক জেলেদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নারীদের কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তায় জাইকা কাজ করছে।

বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাকাহাশি জুনকো। তিনি সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

বৈঠকের শেষদিকে মন্ত্রী অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *