আমিরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে ৩০ বছর পর মুখ খুললেন অভিনেত্রী
বলিউড অভিনেতা আমির খানের সঙ্গে ‘আতঙ্ক হি আতঙ্ক’ সিনেমায় একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী পূজা বেদি। শেষ পর্যন্ত সেই দৃশ্যটি সিনেমায় দেখানো হয়নি। সম্প্রতি সেই সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পূজা জানিয়েছেন, শুটিংয়ের আগে আমিরের একটি আচরণ তাকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছিল।
ভিকি লালওয়ানির পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পূজা বলেন, ‘আতঙ্ক হি আতঙ্ক’-এ আমির ও তার একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ছিল। গল্প অনুযায়ী, এক খলনায়ক পূজার চরিত্রের ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। পরে আমিরের চরিত্র এসে তাকে উদ্ধার করে। বৃষ্টির মধ্যে খলনায়কের সঙ্গে লড়াই করে পূজাকে কোলে তুলে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান তিনি। এরপর তাদের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং করা হয়েছিল।
পূজার ভাষায়, ‘সেই সময় এ ধরনের দৃশ্য খুব একটা হতো না। আমরা ফিল্ম সিটির কাছে মাড আইল্যান্ডের একটি বাংলোয় শুটিং করছিলাম।’
সেই সময় শুটিংয়ের পরিবেশও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, তখনকার দিনে এখনকার মতো মেকআপ ভ্যান বা ভ্যানিটি ভ্যানের ব্যবস্থা ছিল না। শুটিংয়ের একটি দৃশ্য শেষ হওয়ার পর তাকে ও আমিরকে একটি ঘরে পাঠানো হয়।
পূজা বলেন, ‘আমি ঘরে বসে আছি, আমিরও সেখানে বসে। ঘরে একটি বিছানা ছিল। আমার মাথায় তখন নানা ধরনের চিন্তা ঘুরছিল।’
তখন তিনি ছিলেন তরুণ অভিনেত্রী। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি ও ভয় কাজ করছিল তার মধ্যে। পূজার কথায়, ‘আমি ভাবছিলাম, বলিউডে মানুষ যে ধরনের কথা বলে, এটা কি সেই ধরনের কোনো ব্যাপারের অংশ? আমার কী আশা করা উচিত? আমি কিছুটা বিভ্রান্ত ও ভীত ছিলাম। আমির চুপচাপ বসে ছিলেন, আমিও চুপ করে ছিলাম। এরপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো।’
এরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দেন আমির। পূজা জানান, হঠাৎ তার দিকে তাকিয়ে আমির জিজ্ঞেস করেন, ‘দাবা খেলবে?’
পূজা বলেন, “আমি বললাম, অবশ্যই খেলব!” কারণ আমরা একসঙ্গে অনেক দাবা খেলতাম। এরপর আমির পরিচারককে ডেকে বললেন, ‘দাবার সেট নিয়ে এসো।’
পরিচারক দাবার সেট নিয়ে এলে দুজনে খেলতে শুরু করেন। সেই মুহূর্তের কথা মনে করে পূজা বলেন, তখন তার মনে হয়েছিল যেন ‘বিরাট স্বস্তির নিঃশ্বাস’ ফেলেছেন।
১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় ‘আতঙ্ক হি আতঙ্ক’। সিনেমাটিতে আমির খান ও পূজা বেদি ছাড়াও অভিনয় করেন রজনীকান্ত, জুহি চাওলা ও অন্যান্য শিল্পী। এর আগে পূজা ও আমিরকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ সিনেমায়।
সূত্র: এনডিটিভি
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি
