চুরি হওয়া মোবাইলের সূত্র ধরে নটর ডেম কলেজ কর্মী হত্যার রহস্য উদঘাটন
চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নটর ডেম কলেজের কর্মী লিপিকা জুলিয়ানা গমেজ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অ্যব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় জড়িত পাশের বাসার দারোয়ানের ছেলে জুয়েল রানা ও তার বন্ধু নজরুলকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
পিবিআই মিডিয়া শাখার প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ জানান, লিপিকা গমেজ পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে একটি ভবনের ৪ তলায় একা বাস করতেন। বাসা পরিবর্তনের সময় মজুরির বিনিময়ে সাহায্য করায় পাশের বাসার দারোয়ানের ছেলে জুয়েল জানতেন লিপিকা একাই থাকেন। পরবর্তীতে জুয়েল তার বন্ধু নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার আশায় চুরির পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তারা বাসাটির আশপাশ পর্যবেক্ষণ (রেকি) করে। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে (আনুমানিক ৩টা) ভবনের ছাদ থেকে রশি বেয়ে নেমে ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢোকে নজরুল। এরপর সে ঘরের মূল দরজা খুলে দিলে জুয়েল ভেতরে প্রবেশ করে। দুজন যখন মালামাল খুঁজছিল, তখন লিপিকার ঘুম ভেঙে যায় এবং তিনি চিৎকার শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে নজরুল লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং জুয়েল বালিশ দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর আসামিরা লিপিকার দুটি মোবাইল ফোন, ২৬ হাজার ৩৫০ টাকা, একটি হাতব্যাগ এবং ইমিটেশনের গয়না নিয়ে দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরে চুরি করা ফোন দুটি সদরঘাটে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেয়।
ঘটনার পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর লিপিকা লিপিকা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সহকর্মীরা তার বাসায় গিয়ে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হলে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) নিবিড় ছায়াতদন্ত শুরু করে।
চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের আইইএমআই ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ঘটনার ১২ দিনের মাথায় (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪) জুয়েল ও নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত প্লায়ার্স, স্ক্রু ড্রাইভার এবং নিহতের চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
২০২৫ সালের ৭ মে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে।
