টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের পর অফিস সহায়ককে শোকজ


গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক নাজমুলকে ঘিরে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৩ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নাজমুলকে টাকা গুনতে দেখা যায়। একইসঙ্গে কয়েক দফা অর্থ লেনদেন এবং নামজারি-সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভিডিওর দৃশ্য অনুযায়ী, মাওনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পুরনো ভবনে নাজমুলের হাতে কিছু টাকা দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এই একদিন পাঁচ হাজার আর আরেক দিন ১০ হাজার টাকা নিয়েছি।’’ জবাবে অপর একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এক কাজ করেন ভাই, আজকে ১০ হাজার টাকা দেন, আগামীকাল ১৫ হাজার দিবেন।’’ 

এরপর নাজমুলকে আবারও টাকা গুনতে দেখা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বলেন, তাঁর একজন লোক সেদিন আসার কথা ছিল। কোনো কারণে ফাইলটি ‘মিস’ হলে বৃহস্পতিবার পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে থাকা বক্তব্য ও দৃশ্যের বিষয়ে জানতে নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে পারবেন না।

অভিযোগের পর তাকে মাওনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ করতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হলেও উপজেলা ভূমি অফিস জানিয়েছে, তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও বদলি করা হয়নি।

মাওনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘‘উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যার তাকে তেলিহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে আমি এখনো কোনো চিঠি পাইনি।’’ 

ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, এটা আমি দেখিনি। তবে এটা আমাদের অফিসের বাইরের ঘটনা।’’

শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ নিয়াজ শিশির বলেন, ‘‘ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ 

নাজমুলকে বদলি করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তাঁকে কোথাও ট্রান্সফার করা হয়নি। আপাতত তাঁকে মাওনা ভূমি অফিসে অফিস করতে নিষেধ করা হয়েছে। ট্রান্সফারের সম্পূর্ণ এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের। এখনো তাকে অফিসিয়ালি ট্রান্সফার করা হয়নি।’’ 

অবশ্য ভাইরাল ভিডিওতে প্রদর্শিত অর্থের উৎস, লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং নামজারি-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল কি না- এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তদন্ত ও শোকজের জবাবের পরই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *