আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের বিতর্ক: ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিবে
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও আর্জেন্টিনা ও মিসরের শেষ ষোলোর ম্যাচের বিতর্ক থামেনি। মাঠের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর এবার ম্যাচের রেফারিং নিয়ে মন্তব্যের জেরে মিসরের কোচ, ম্যানেজার ও এক ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফিফা।
মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দেওয়া বক্তব্যের কারণে জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান, ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর বিরুদ্ধে ফিফা শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।
ইএফএ বলেছে, ফিফার এই পদক্ষেপ তারা পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে জাতীয় দলের কোচ, ম্যানেজার ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রক্রিয়াটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংস্থাটি।
২-০ থেকে ২-৩, শেষ দিকে বদলে যায় ম্যাচ
আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৭ জুলাই আটলান্টায়। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। তখন তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে হচ্ছিল।
কিন্তু শেষ ১৪ মিনিটে পুরোপুরি পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। আর্জেন্টিনা দ্রুত তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ফলে জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে নাটকীয়ভাবে বিদায় নিতে হয় মিসরকে।
তবে ম্যাচ শেষে মিসরের ক্ষোভের মূল কারণ হয়ে ওঠে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের কয়েকটি সিদ্ধান্ত।
বাতিল গোল নিয়ে ক্ষুব্ধ জিকো
রেফারিং নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। ম্যাচে গোল করার পর তিনি উদযাপনও করেছিলেন। কিন্তু রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এরপর ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিকোসহ মিসরের দলের অন্য সদস্যরা। তাদের কয়েকটি মন্তব্য নিয়েই পরে ফিফার শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএফএ।
ম্যাচ শেষে মিসরের কোচ হোসাম হাসানের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির মধ্যেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাঠের সেই উত্তেজনা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
রেফারি লেতেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে মিসরীয় সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। এমনকি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর একপর্যায়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন ফরাসি এই রেফারি।
বিতর্ক গড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও
ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিসরীয় সমর্থকেরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি বিতর্কিত ই-মেইল পাঠিয়েছিল। ওই বার্তাতেও ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বলে দাবি করা হয়।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের রেশ এখনো দুই দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে। মিসরের কাছে এটি হয়ে আছে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা থেকে নাটকীয় বিদায়ের গল্প। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কাছে ম্যাচটি শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অন্যতম উদাহরণ।
তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় স্কালোনির দল। এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন।
সূত্র: গোল ডটকম, মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
বাপ্পি/সা.এ
