স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে সাংবাদিক দেবাশীষ ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে


অসুস্থ স্ত্রী-সন্তান আর শ্বশুরকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। দেশে থাকা আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত আর বৃদ্ধ বাবা-মা, স্বজন ও সহকর্মীদের জন্য টুকটাক কেনাকাটাও করেছিলেন।

দেবাশীষ পরিবারসহ দেশে ঠিকই ফিরলেন। তবে জীবিত অবস্থায় পায়ে হেঁটে নয়, ফিরলেন প্রাণহীন কফিনে বন্দি হয়ে। বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে উঠেছিলেন কলকাতার একটি হোটেলে। সেখানেই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তারা।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে বেনাপোল সীমান্তে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ও ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুটি অ্যাম্বুলেন্সযুগে কফিনবন্দি চারটি মরদেহ রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ায় পৌছায়।

রাতেই পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথক ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন হয়। দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুসন্তান স্বর্ণশীষের সৎকার শেষে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সমাধিস্থ করা হয়। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষগুলোকে এক নজর দেখতে সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত মানুষ দেবাশীষের বাড়িতে ভিড় করেন। বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠন সাংবাদিক দেবাশীষের মরদেহ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বেনাপোল সীমান্তে মরদেহ গ্রহণ করতে যাওয়া কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর বলেন, আমরা দুই দেশের সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি- নিহতদের পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হোক।

জানা গেছে, চলতি মাসের ৩ তারিখ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কলকাতায় পৌঁছান দেবাশীষ দত্ত। সেখান থেকে পরদিন ৪ আগস্ট বেঙ্গালুরু যান তারা। এদিকে আকরাম আলী তার আরেক জামাইয়ের চিকিৎসার জন্য ৫ আগস্ট কলকাতা যান।

বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ১৭ আগস্ট কলকাতায় ফেরেন দেবাশীষ। ওঠেন নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে ওই হোটেলে আগুনে নয়জন নিহত হন।

এদের মধ্যে ছিলেন দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৭), তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও আফসানার বাবা আকরাম আলী (৬০)। বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহগুলো মর্গে রাখা হয়।

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আল-মামুন সাগর/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *