জাহের আলভীর রহস্যময় স্ট্যাটাস
ছোটপর্দার বর্তমান সময়ের বেশ জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনেতা জাহের আলভী। অভিনয়ে বৈচিত্র্য এনে একের পর এক নাটক দিয়ে নিয়মিতই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিচ্ছিলেন তিনি। অন্যদিকে স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা ও সন্তান রিজিককে নিয়ে জীবনের চমৎকার এক অধ্যায় পার করছিলেন।
তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিবারের সেই চেনা হাসিখুশি চিত্র একমুহূর্তেই ফিকে হয়ে যায়। মিরপুরের নিজস্ব বাসভবন থেকে স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে থমকে দাঁড়ায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বদলে যায় অভিনেতার পথচলার গতিপথ।
ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করা হলে আইনি জটিলতায় পড়েন জাহের আলভী। পরে তাকে কারাগারেও যেতে হয়। সম্প্রতি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন এই অভিনেতা। আর মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক রহস্যময় পোস্ট দিচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাত্র দুটি শব্দ লিখে একটি পোস্ট দেন আলভী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বেছে বেছে’। সংক্ষিপ্ত এই বার্তার মাধ্যমে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি। ফলে পোস্টটি ঘিরে তার ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল।
এরপর জেলজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও একটি ভাবনামূলক পোস্ট শেয়ার করেন অভিনেতা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জেলখানায় ২টি জিনিস খুব দামী ও দুর্লভ। একটি হচ্ছে হলিউড (সিগারেট), আরেকটি হচ্ছে ঘুম। আর জেলখানায় সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য জিনিস হচ্ছে একটি। সেটি হচ্ছে চিন্তা।’
পোস্টের শেষে ‘মধ্যরাতের কবি’ নামে স্বাক্ষর করেছেন জাহের আলভী। অভিনেতার এই লেখায় কারাগারের ভেতরের জীবনের একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে ‘ঘুম’কে দুর্লভ এবং ‘চিন্তা’কে সহজলভ্য বলার বিষয়টি নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। তবে ঠিক কোন অভিজ্ঞতা বা অনুভূতি থেকে এমন কথা লিখেছেন, তা ব্যাখ্যা করেননি আলভী।
এর আগে ‘বেছে বেছে’ লিখে পোস্ট দেওয়ার পর এবার জেলজীবন নিয়ে এমন ভাবনামূলক স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেতা। পরপর দেওয়া এসব পোস্ট ঘিরে তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকে তাঁর পোস্টের অন্তর্নিহিত অর্থ জানার চেষ্টা করছেন।
তবে শুধু রহস্যময় পোস্ট নয়, সন্তান রিজিককে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে জাহের আলভীকে। সন্তানের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন সুন্দর ও আবেগঘন মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করছেন তিনি।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি
