স্বপ্নের দেশে উচ্চশিক্ষা: শুরু হোক সঠিক পরিকল্পনায়
দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। তবে সত্যি বলতে, উপযুক্ত পথনির্দেশের অভাবে শুরুর দিনগুলোতে অনেকেই বেশ দিশাহারা বোধ করেন। আমার মনে হয়, উচ্চশিক্ষার এই দীর্ঘ ও জটিল যাত্রা সহজ করার মূল চাবিকাঠি হলো একটি রোডম্যাপ অনুসরণ করা।
এই যাত্রার শুরুতেই নিজের গন্তব্য ও উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা সবচেয়ে জরুরি। কোন বিষয়ে পড়ালেখা করবেন, কোন দেশে যাবেন এবং কেন যাবেন- এগুলো নিয়ে শুরুতেই গভীর ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থা, খরচ, জীবনযাত্রার মান এবং কাজের সুযোগ-সুবিধায় অনেক বড় পার্থক্য বিদ্যমান। তাই কেবল আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, গভীর গবেষণা করে নিজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পথটি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পড়াশোনার আবেদনের ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল বা জিপিএ আপনাকে সবসময়ই প্রতিযোগিতায় একধাপ এগিয়ে রাখবে। এর পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। একই সাথে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ক্ষেত্রভেদে নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা ব্যবসায়িক বিষয়ের ওপর বিশেষ পরীক্ষার প্রস্তুতিও সময়মতো শেষ করে রাখা উচিত।
অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় আর্থিক বিষয়টি। তবে শুরু থেকেই সতর্ক থাকলে এবং খোঁজখবর রাখলে আন্তর্জাতিক মানের নামকরা শিক্ষাবৃত্তি কিংবা উপবৃত্তি অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি মওকুফ কিংবা কাজের বিনিময়ে উপবৃত্তির বিশেষ সুযোগ দিয়ে থাকে, যা শুরুতেই জেনে রাখা দরকার।
একটি মানসম্মত আবেদনের আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মধ্যে। নিজের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে লেখা উদ্দেশ্যপত্র, শিক্ষক বা কর্মক্ষেত্রের উর্ধ্বতনদের কাছ থেকে নেওয়া মূল্যায়ন ও সুপারিশপত্র, অর্জনের নিখুঁত জীবনবৃত্তান্ত এবং সত্যায়িত নম্বরপত্রগুলো আগে থেকেই গুছিয়ে রাখতে হয়। এই কাগজগুলোই বিচারকদের কাছে একজন আবেদনকারীর আসল পরিচয় তুলে ধরে।
আবেদন প্রক্রিয়ায় কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে অন্তত ৮ থেকে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা উচিত। এগুলোকে নিজের সুবিধার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী, মাঝারি এবং শতভাগ নিরাপদ- এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিলে আবেদন ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। সাধারণত কোনো সেশনের মূল আবেদন শুরু হওয়ার অন্তত এক থেকে দেড় বছর আগে থেকেই পুরো প্রস্তুতির কাজ শুরু করা জরুরি।
চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর বড় ধাপটি হলো ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এজন্য ব্যাংক ব্যালেন্সের সঠিক হিসাব, পর্যাপ্ত আর্থিক নিশ্চয়তার প্রমাণপত্র তৈরি রাখা এবং সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউয়ের জন্য উপযুক্ত মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।
শুধু ভালো নম্বরই আবেদনের শেষ কথা নয়। গবেষণা নিবন্ধ, স্বেচ্ছাসেবী অভিজ্ঞতা বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের কাজের অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইলকে অন্যদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে দেয়। সেই সাথে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রাখা গেলে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেও অনেক দিকনির্দেশনা মেলে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া আর ধৈর্য ধরে লেগে থাকাই এই দীর্ঘ সফরে সফল হওয়ার একমাত্র পথ।
এমআরএম
স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা
পাঠানোর ঠিকানা –
[email protected]
