চট্টগ্রামে উৎসব শপকে ১০ লাখ-ফ্লেভারসকে ১৯ লাখ, মেরিডিয়ানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা


নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

শনিবার (২২ আগস্ট) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ মোস্তফা-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে ৪টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে সংশ্লিষ্টদের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

উৎসব সুপার শপকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

উৎসব সুপার শপে মানহীন আচার ও হোমমেইড পণ্য বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস সংরক্ষণ ও বিক্রি, আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যে যথাযথ লেবেলিং না থাকা এবং পুষ্টিতথ্য গোপন করার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।

এছাড়া আমদানিকারকের যথাযথ তথ্য ছাড়া খাদ্যপণ্য বিক্রি, জিলাপিতে ব্যবহৃত রঙের তথ্য না থাকা, একই সরঞ্জামে বিভিন্ন ধরনের মাংস প্রক্রিয়াকরণ, কোল্ড স্টোরেজ যথাযথভাবে পরিচালনা না করা, নষ্ট খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়া শিশুখাদ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হোমমেইড পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পাশাপাশি আমদানিকৃত ফলমূলের ক্রয়মূল্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ এবং যথাযথ অনুমোদন ও পুষ্টিতথ্য ছাড়া আচার ও হোমমেইড পণ্য বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্লেভারস সুইটস এন্ড বেকারিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা

ফ্লেভারস সুইটস এন্ড বেকারির কারখানায় নিম্নমানের ঘি ব্যবহার ও উৎপাদন, খাদ্যে ভেজাল উপকরণ ও পঁচা-বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি-কেক-বিস্কুট রাখা, যথাযথ লেবেলিং না করা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া নোংরা ড্রেনেজ, ভাঙা টাইলস, অপরিচ্ছন্ন সরঞ্জাম, পোকাযুক্ত বাদাম ব্যবহার, অনিরাপদভাবে খাবার সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও মান নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার মতো অনিয়মও পাওয়া যায়।পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন কক্ষ, ড্রয়ার ও ফ্রিজার তালাবদ্ধ রেখে সহযোগিতা না করার বিষয়টিও পরিলক্ষিত হয়।

এসব অনিয়মের দায়ে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মানোন্নয়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডে বিভিন্ন চিপস, নুডলস ও ম্যাংগো বারের গুণগত মান নিশ্চিত না করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, তেলাপোকার উপস্থিতি, খাদ্য উপকরণে পোকামাকড়ের উপস্থিতি, ভাঙা ও তৈলাক্ত ফ্লোর এবং অপরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা পাওয়া যায়।

এছাড়া বর্জ্য সংরক্ষণ, খাদ্য উৎপাদনে পোড়াতেল ব্যবহার, মেয়াদবিহীন পটেটো স্টিকস এবং ব্যবহৃত তেল ও ম্যাংগো পাল্পে যথাযথ মেয়াদ উল্লেখ না থাকার মতো অনিয়মও পাওয়া যায়।

এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সকল পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিও ক্যাফে-মাজায়দারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

রিও ক্যাফে-মাজায়দারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রি, পঁচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য ছাড়া চকোলেট ডোনাট ও পেস্ট্রি সংরক্ষণ ও বিক্রির অনিয়ম পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও সনদ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টিও পরিলক্ষিত হয়। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

উক্ত সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়, চট্টগ্রামের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং র‍্যাব-৭, সিএমপি, চট্টগ্রাম ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা সার্বিকভাবে সমন্বয় করেন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে এ ধরনের আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



কুশল/সাএ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *